হ্যাটট্রিকে ইতিহাস, মেসির পাশে নাম লিখলেন ডেভিড
কানাডার তারকা ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি শুধু ম্যাচই নয়, ব্যক্তিগত অর্জনেও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম যুক্ত করেছেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন, যা ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে একটি বিরল ও বিশেষ কীর্তি।
শুক্রবার (১৯ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে কানাডা। ডেভিড ছিলেন পুরো আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ কাতারের রক্ষণভাগকে চাপে রাখতে থাকেন তিনি। তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কাতার ডিফেন্সকে বারবার বিপর্যস্ত করে তোলে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিনি একাধিক সুযোগ তৈরি করেন এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়ে আক্রমণ গড়ে তোলেন।
প্রথম গোলের পথ তৈরি হয় তারই এক শক্তিশালী শট থেকে, যা পোস্টে লেগে ফিরে এলে তা কাজে লাগান সাইলে লারিন। এরপর নিজেই জ্বলে ওঠেন ডেভিড। প্রথমার্ধে দুটি দারুণ গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কানাডার দিকে নিয়ে যান তিনি। একটি গোল আসে নিখুঁত ভলি থেকে, আর অন্যটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। এই দুই গোলের মাধ্যমে তিনি পৌঁছে যান জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও তার আক্রমণাত্মক খেলা অব্যাহত থাকে। কাতারের রক্ষণভাগ তখন আগেই চাপে বিপর্যস্ত ছিল, আর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর তাদের অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড।
ডেভিডের এই হ্যাটট্রিক কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, একই বিশ্বকাপ আসরে হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের পাশে নাম লেখানো নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী কীর্তি।
তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে কানাডা ম্যাচে বড় জয় নিশ্চিত করে এবং গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তোলে। পাশাপাশি দলের আক্রমণভাগে ডেভিডের গুরুত্ব যে কতটা অপরিহার্য, তা আবারও প্রমাণিত হলো।
মতামত দিন