Views Bangladesh Logo

প্রতিদিন সাইকেল চালালে কমবে মৃত্যুঝুঁকি, বাড়বে আয়ু

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় শরীররচর্চা করার সময় অনেকেই পান না। তাদের জন্য সাইকেল চালানো হচ্ছে সারাদিনের আদর্শ ব্যায়াম। প্রয়োজন শুধু একটি দ্বিচক্রযান, আধঘণ্টা সময় আর খানিকটা আত্মবিশ্বাস। শরীরচর্চার মধ্যে সবচেয়ে ভালো হলো সাইক্লিনিং।


জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত সাইকেল চালালে আয়ু ক্ষয় কমতে পারে। ওই গবেষণা আরো বলেছে, সাইকেল চালালে শরীরচর্চার পাশাপাশি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। প্রায় ৭ হাজার মানুষকে নিয়ে ৫ বছর ধরে গবেষণাটির করা হয়। যাদের প্রায় অধিকাংশই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

গবেষণা শেষে দেখা গিয়েছে, পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন সাইকেল চালালে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়েছে অনেকটুকু। গবেষকদের দাবি, সাইকেল চালালে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে ডায়াবেটিসের মাত্রা। তাই নিয়মিত সাইকেল চালালে যেমন ওজন কমবে, তেমনই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েও কমবে দুশ্চিন্তা পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এনে হৃদরোগের আশঙ্কাও কমাবে এই ব্যায়াম।

সাইকেল চালানোর আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

সাইকেল চালানোর আগে রাইডের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কিছু প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিচে এ বিষয়ে একটি প্যারাগ্রাফ দেওয়া হলো:সাইকেল চালানোর আগে অবশ্যই রাইডিং গিয়ার যেমন—হেলমেট, গ্লাভস এবং চোখে রোদচশমা পরে নেওয়া উচিত, যা দুর্ঘটনাজনিত আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখে। এরপর সাইকেলের ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছে কি না, টায়ারে সঠিক পরিমাণে বাতাস আছে কি না, এবং চেইন বা নাট-বোল্টগুলো আলগা আছে কি না তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া আবশ্যক। শরীরের পেশির আড়ষ্টতা দূর করতে এবং রাইডটি সাবলীল করতে যাত্রার শুরুতে ১০-১৫ মিনিট হালকা স্ট্রেচিং বা ওয়ার্ম-আপ করে নেওয়া উচিত। এছাড়া শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি বা এনার্জি ড্রিংক সাথে রাখুন এবং আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। পরিশেষে, আপনার রুট বা রাস্তা আগে থেকে নির্বাচন করে সাইকেলের সিট নিজের উচ্চতা অনুযায়ী ঠিক করে নিয়ে যাত্রা শুরু করুন।

সাইকেল চালানোর স্বাস্থ্যগত সুফল

সাইকেল চালানো অত্যন্ত কার্যকর ও আনন্দদায়ক একটি অ্যারোবিক ব্যায়াম, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে দারুণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সাইকেল চালালে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে হ্রাস করে। এটি পায়ের পেশি, বিশেষ করে উরু ও হাঁটুর পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে এবং হাড়ের সন্ধি বা জয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত চাপ না দিয়েই শরীরের ভারসাম্য ও ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়।

এছড়াও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাইক্লিংয়ের বিকল্প নেই। নিয়মিত সাইকেল চালালে বিপাক বা মেটাবলিজমের হার বৃদ্ধি পায়, ফলে খুব দ্রুত অতিরিক্ত ক্যালোরি ও পেটের মেদ ঝরে যায়। এটি ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। পাশাপাশি, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে এটি অত্যন্ত সাহায্য করে।শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সাইক্লিং অত্যন্ত ফলপ্রসূ। সাইকেল চালানোর সময় শরীর থেকে 'এন্ডোরফিন' বা 'ফিল-গুড' হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ, ক্লান্তি, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, খোলা বাতাসে নিয়মিত সাইকেল চালালে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, মন প্রফুল্ল থাকে এবং রাতে গভীর ঘুম হয়। ঢাকায় যানজট এড়াতে ও ব্যক্তিগত বাহন হিসেবে সাইকেলের ব্যবহার পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের পাশাপাশি শরীরকে রাখে চিরসবুজ।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সাইক্লিং সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতামত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা'র মতে, সুস্বাস্থ্যের জন্য সাইক্লিং একটি অন্যতম কার্যকরী, টেকসই ও সাশ্রয়ী অ্যারোবিক ব্যায়াম। নিয়মিত সাইকেল চালানোর মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাছাড়া, প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট সাইকেল চালালে মানুষের সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি ১০% পর্যন্ত কমে যায়।নিয়মিত সাইক্লিং ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি এটি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা দূর করতে দারুণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া, বায়ুদূষণ রোধ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব বয়সী মানুষের জন্য সাইকেল চালানোর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত বা দৈনন্দিন জীবনে সাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই একজন মানুষ তার সাপ্তাহিক শারীরিক পরিশ্রমের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারে। বিশ্বজুড়ে সাইক্লিংয়ের এই অপরিহার্য উপকারিতা বিবেচনায় নিয়ে, ডব্লিউএইচও সব দেশকে সাইকেল চালকদের জন্য নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো ও নীতি প্রণয়নের পরামর্শ দিয়ে থাকে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ