Views Bangladesh Logo

প্রথম বিশ্বকাপ উপভোগই নয়, লড়াইও করতে চায় কুরাসাও

উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দল কুরাসাও। বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলে কুরাসাও একটি চমকপ্রদ নাম। দীর্ঘদিন নেদারল্যান্ডসের অধীনে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রটি মূলত 'নীল ঢেউ' নামে পরিচিত। ডাচ বংশোদ্ভূত কোচ এবং এক ঝাঁক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই দলটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার জন্য পরিচিত। কুরাসাও ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য কোয়ালিফাই করেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, যা তাদের ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য। ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, কুরাসাও ৮২তম অবস্থানে রয়েছে।

অতীত রেকর্ড ও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ
ফুটবল ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও রোমাঞ্চকর রেকর্ড গড়ে প্রথমবারের মতো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশটি ১৮ নভেম্বর ২০২৫-এ জ্যামাইকার সাথে ০-০ ড্র করে কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ বি-তে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের প্রথম বিশ্বমঞ্চের টিকেট নিশ্চিত করে। এর মাধ্যমে কুরাসাও আইসল্যান্ডের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

শক্তিমত্তা
কুরাসাও ফুটবল দলের নেদারল্যান্ডসের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে তাদের দলে প্রচুর সংখ্যক ডাচ-কুরাসাও বংশতভূত খেলোয়াড় রয়েছে, যারা ইউরোপীয় লিগগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং উচ্চমানের দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে সক্ষম। শারিরীক গঠন, গতি এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগ কুরাসাওয়ের প্রধান শক্তির জায়গা, যা তাদের প্রতিপক্ষ দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। দলগত সংহতি এবং আক্রমণাত্মক খেলার মানসিকতা কুরাসাওকে ফুটবলে একটি সমীহ জাগানিয়া দলে পরিণত করেছে।

দুর্বলতা
ফুটবলে কুরাসাও-এর মূল দুর্বলতা হলো অভিজ্ঞতার অভাব এবং গভীরতার ঘাটতি। ক্যারিবীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটি মূলত নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক পেশাদার ফুটবলারদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, যার ফলে দলের নিজস্ব কাঠামো ও স্থানীয় ফুটবল সংস্কৃতি খুব একটা সমৃদ্ধ নয়। শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার সময় তাদের রক্ষণে মনোসংযোগের অভাব এবং প্রতি-আক্রমণ সামলানোর ক্ষেত্রে দুর্বলতা প্রায়শই ফুটে ওঠে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
কুরাসাও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হলেন অধিনায়ক লিয়েন্দ্রো বাকুনা যিনি বর্তমানে তুর্কি ক্লাব ইগদির এফকেতে খেলছেন। দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার জুনিনহো বাকুনা এফসি ভলেন্দাম ক্লাবের হয়ে খেলছেন। গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলোয় রুম দলের প্রধান ভরসা, যিনি মায়ামি এফসিতে খেলেন। এছাড়া, আক্রমণভাগে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ র‍্যাঞ্জেলো জাঙ্গাও মায়ামি এফসিতে খেলেন। রক্ষণে শুশর্ন্দি সাম্বো এবং শেরেল ফ্লোরানুস-এর মতো খেলোয়াড়রা রক্ষণভাগ সামলাচ্ছেন। মূলত ডাচ লীগ ও তুরস্কের লীগে খেলা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি বিশ্বকাপের মূল পর্বে বড় দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়া কুরাসাও এবারের টুর্নামেন্টের গ্রুপ ই-তে স্থান পেয়েছে। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের এই ক্ষুদ্র দলটি গ্রুপ পর্বে বেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হবে। তাদের গ্রুপে থাকা বাকি তিনটি দল হলো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, দক্ষিণ আমেরিকা শক্তিশালি দল ইকুয়েডর এবং আফ্রিকার প্রতিনিধি আইভরি কোস্ট। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কুরাসাওয়ের জন্য জার্মানি, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডরের মতো দলের বিপক্ষে খেলাটা বিশাল চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বিশ্বকাপের মূল পর্বে জার্মানি, আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডরের মতো শক্তিশালী দলের সাথে একই গ্রুপে পড়ায়, তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম, তবুও জুনিনহো বাকুনার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দলটি প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে সক্ষম। বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াই তাদের জন্য একটা বড় জয়, আর যদি তারা গোল করে অথবা একটি ম্যাচ ড্র করতে পারে, তবে তা কুরাসাওয়ের ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ