গ্রুপ-এল
ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে এবার বিশ্বজয়ের লক্ষ্য ক্রোয়েশিয়ার
এবারের বিশ্বকাপে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ও কৌশলী দল হিসেবে মাঠে নামছে ক্রোয়েশিয়া। ছোট দেশ হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে তারা। গত এক দশকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে ক্রোয়েশিয়া বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত দলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলে লড়াই করার মানসিকতা তাদের আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ে ক্রোয়েশিয়ার অবস্থান ১১তম। ২০১৮ সালে রানার্সআপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জনের পর এবার তাদের লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করা।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
ক্রোয়েশিয়া প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৯৮ সালে এবং অভিষেক আসরেই তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্বকে চমকে দেয়। এরপর ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে পৌঁছায়, যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও তারা দারুণ লড়াই করে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সফলতা ক্রোয়েশিয়াকে ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর দলে পরিণত করেছে। বর্তমানে কোচ জ্লাতকো দালিচের অধীনে দলটি কৌশলী ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে।
শক্তিমত্তা
ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলা, বলের দখল ধরে রাখা এবং সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে তারা খুবই দক্ষ। দলটির খেলোয়াড়রা টেকনিক্যালি সমৃদ্ধ এবং চাপের মুহূর্তেও ধৈর্য ধরে খেলতে পারে। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তা তাদের অন্যতম বড় সম্পদ। রক্ষণভাগেও তারা সংগঠিত ফুটবল খেলে এবং কাউন্টার অ্যাটাকে দ্রুত আক্রমণে উঠতে সক্ষম। দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে খেলার কারণে দলীয় বোঝাপড়াও খুব ভালো।
দুর্বলতা
ক্রোয়েশিয়ার প্রধান দুর্বলতা হলো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের বয়স বেড়ে যাওয়া। মাঝমাঠে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গতি কিছুটা কমে গেছে, যা দ্রুতগতির দলের বিপক্ষে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আক্রমণভাগেও ধারাবাহিক গোলদাতার অভাব মাঝে মাঝে ভোগায়। এছাড়া রক্ষণভাগে চাপের মুহূর্তে ভুল করার প্রবণতাও দেখা যায়। তরুণ খেলোয়াড়দের বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিশ্চিত করাও দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
ক্রোয়েশিয়া দলে অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন এবং তিনি দলের প্রাণভোমরা। মাঝমাঠে মাতেও কোভাচিচ ইংল্যান্ডের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেন এবং বল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডিফেন্ডার যোশকো গভার্দিওলও ম্যানচেস্টার সিটির সদস্য এবং রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান শক্তি। ফরোয়ার্ড আন্দ্রেই ক্রামারিচ জার্মান ক্লাব হফেনহাইমের হয়ে খেলেন। এছাড়া মারিও পাশালিচ ইতালির ক্লাব আতালান্তার হয়ে খেলে দলের মাঝমাঠকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেন।
গ্রুপ প্রতিপক্ষ ও সম্ভাবনা
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ক্রোয়েশিয়া ‘গ্রুপ-এল’-এ জায়গা পেয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ঘানা এবং পানামা। এই গ্রুপে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যেখানে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের লড়াই দেখা যাবে। ঘানাও শারীরিক শক্তি ও গতিময় ফুটবলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। পানামার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকবে। অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচে সফলতার কারণে ক্রোয়েশিয়াকে নকআউট পর্বে ওঠার অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে আবারও সম্ভাবনাময় দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও আগের আসরের মতো তারকাসমৃদ্ধ দল এখন নেই, তবুও অভিজ্ঞতা ও কৌশলী ফুটবলের কারণে তারা যেকোনো বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় সমন্বয় ধরে রাখতে পারলে ক্রোয়েশিয়া আবারও সেমিফাইনাল কিংবা তারও বেশি দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের লড়াকু পরিচয় বজায় রাখাই এবার তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
মতামত দিন