Views Bangladesh Logo

আঙুল মটকানোর অভ্যাস কি ক্ষতিকর? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

কাজের ফাঁকে বা অজান্তেই অনেকের আঙুল মটকানোর অভ্যাস দেখা যায়। একটানা টাইপ করতে করতে ক্লান্তি এলে আঙুল ফোটালে যে ‘কট’ শব্দ হয়, তাতে এক ধরনের অদ্ভুত স্বস্তি মেলে। তবে এই শব্দের পেছনে অস্থিসন্ধির ভেতরে ঠিক কী ঘটনা ঘটে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল থেকে যায়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে থাকে ‘সাইনোভিয়াল ফ্লুইড’ নামের এক ধরনের তরল পদার্থ। আঙুলে চাপ দিলে বা বাঁকানো হলে এই তরলের ভেতরে বুদবুদ সৃষ্টি হয়ে তা ফেটে যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্রিপিটেশন’। মূলত এই গ্যাসীয় বুদবুদ ফাটার প্রক্রিয়া থেকেই তৈরি হয় সেই পরিচিত শব্দ।

একই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো বা এ ধরনের হালকা শব্দ করলে হাড় বা জয়েন্টের বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। ক্লান্তি কাটাতে কিংবা এক ধরনের মানসিক তৃপ্তির জন্য অনেকেই এই কাজ করে থাকেন। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না করলে এতে ভয়ের কিছু নেই এবং সরাসরি অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে এর তেমন সম্পর্কও নেই। তবে আঙুল ফোটাতে গিয়ে যদি ব্যথা অনুভূত হয় এবং তা দীর্ঘদিন থেকে যায়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালেভদ্রে আঙুল ফোটানো তেমন সমস্যাজনক না হলেও এটি অভ্যাসে পরিণত হলে বিপত্তি ঘটতে পারে। অতিরিক্ত জোরে চাপ দিয়ে বা মোচড় দিয়ে আঙুল ফোটালে, কিংবা অন্য কারো সাহায্যে জোর করে ফোটানো হলে লিগামেন্ট শিথিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের অতিরিক্ততার ফলে হাতের গ্রিপ শক্তি বা কোনো কিছু আঁকড়ে ধরার সক্ষমতা কমে যেতে পারে, এমনকি লিগামেন্টে আঘাত লাগারও ঝুঁকি তৈরি হয়।

তাই আঙুল মটকানোকে অভ্যাসে পরিণত না করে নিয়ন্ত্রণে রাখাই শ্রেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই কাজ থেকে যদি দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার সৃষ্টি হয়, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ