Views Bangladesh Logo

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইউরোপের ৪ দেশে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন লাখো মানুষ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন শহরে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম অস্থির দিন পার করেছে ফ্রান্স। একই দিনে বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালেও তুলনামূলক ছোট পরিসরে বিক্ষোভ হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সারা দেশে ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। স্কুলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো, শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো ও তরুণদের ওপর পুলিশি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে সেই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তাতে যুক্ত হয় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ইস্যু।

সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মধ্য ফ্রান্সের লিমোজে। সেখানে মুখোশধারীরা প্রথমে টাউন হলের সামনে একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভবনে আগুন লাগায়। আগুনে ১৮৮৩ সালে নির্মিত ১৪৩ বছরের পুরোনো ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান মরিস বারাত্ত বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভবনটির পশ্চিম অংশ ছাড়া প্রায় সবটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বাইরের কাঠামোর দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে নেই। তিনি ঘটনাকে ঐতিহ্যের জন্য 'বিপর্যয়' এবং দুর্বৃত্তদের 'পরিকল্পিত কাজ' বলে আখ্যা দেন। ভবনটি ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্মারকের তালিকাভুক্ত ছিল।

লিমোজের পাশাপাশি মার্সেই ও লিলে সিটি হলে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। লিঁওতে পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। এএফপির তথ্যমতে, প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিমোজ, লিল, তুলুজ ও স্ত্রাসবুর্গে কয়েক ডজন দোকানে লুটপাট হয়েছে। রাজধানীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানান, সংঘর্ষে ১৫০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁর হিসাবে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যক্তির হাত ছিঁড়ে যাওয়ার খবরও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের 'বিশৃঙ্খলার বীজ বপনকারী' বলে তীব্র নিন্দা জানান। শনিবার গভীর রাতে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও টাউন হলে যারা হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি দেওয়া হবে।

ফ্রান্সের বাইরে বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। আলবেনিয়ায় সরকারের দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষার নিম্নমানের প্রতিবাদে আলাদা বিক্ষোভ হয়েছে। প্যারিসের এইচইসি বিজনেস স্কুলের ইইউ আইনের অধ্যাপক আলবের্তো আলেমান্নো আল জাজিরাকে বলেন, ফ্রান্স এ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু, তবে তা এখন ফ্রান্সের বাইরেও ছড়াচ্ছে। তাঁর মতে, শনিবারের বিক্ষোভই শেষ নয়, নতুন নতুন স্থানেও বিক্ষোভ দানা বাঁধতে পারে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ