Views Bangladesh Logo

মূল্যস্ফীতির পারদ বাড়ছেই

বাজারব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন

ত চার বছর ধরে কমবেশি সব দেশেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। মূল্যস্ফীতির চাপে বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে গরিব দেশের সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা। আবার বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির যে সরকারি হিসাব দেয়া হচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি মনে করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই চলমান মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে? দ্রব্যমূল্য কি বাড়তেই থাকবে? ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি যখন ৯ শতাংশের ওপরে ওঠে, তখন সেটি নেমে আসতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ, যা খুবই দুঃখজনক।

দেশের মূল্যস্ফীতির পারদ বাড়ছেই। টানা ১০ মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে মূল্যস্ফীতি প্রবাহমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৯৩ ও ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সে হিসাবে ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। তবে এখনো তা সাড়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছিই রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার গত ডিসেম্বরে ৮ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও তা সরকারের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তাই সামষ্টিক অর্থনীতিতে নানা চাপ থাকলেও মূল্যস্ফীতিই বর্তমানে নতুন সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়ই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করা হলেও বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্ববাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম কমছে। তবে এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। কারণ বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয় না। যদিও আমদানিকারকরা এর জন্য মূলত ডলার সংকট এবং আমদানির এলসি খোলার ওপর কড়াকড়িকে দায়ী করে থাকেন।

বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র শীত, অন্যদিকে বাজারে আগুন। এতে সীমিত আয়ের মানুষ তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো না যায়, তাহলে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে জর্জরিত সাধারণ মানুষ কীভাবে বাড়তি দামের বোঝা বহন করবে? তাই দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, শ্রমবাজারে সংকট তৈরি হওয়া এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি সীমিত হয়ে পড়ার মতো বিষয়ে সরকারকে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, অর্থ মন্ত্রণালয় একা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তাই তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। একমাত্র সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনাই পারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে। তাই দেশের অসাধু ব্যবসায়ী ও পণ্য আমদানিকারক যেন কোনো কারসাজি করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। কেউ কারসাজি করলে তাৎক্ষণিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ