Views Bangladesh Logo

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধান জরুরি

সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী একটা সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সহিংসতার হাত থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী, পুলিশ, পথচারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং শিশুও রক্ষা পায়নি। এতে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, যা নজিরবিহীন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে পড়ে যে, সরকারকে সেনাবাহিনী মোতায়েন ও কারফিউ জারি করতে হয়েছে। তবু সারা দেশে জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ রোবাবার (৪ আগস্ট) থেকে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে। অন্যদিকে জমায়েত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আওয়ামী লীগের। তাই দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে এরই মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এমন খবর কোনো গণতান্ত্রিক দেশের জন্য সুখকর নয়।

কারণ এই সহিংসতায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, যা কখনো পূরণ হবার নয়। প্রাণের চেয়ে বেশি মূল্যবান সম্পদ আর পৃথিবীতে নেই। অন্যদিকে অর্থনীতির ক্ষতিও তেমনি গভীর উদ্বেগজনক। গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য। শিল্পকারখানা কিছুদিন বন্ধ থাকার পর চালু হলেও শিক্ষার্থীদের অব্যাহত আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রবাসী আয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ডলার-সংকট ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও চলছে অচলাবস্থা। সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েও ফের স্থগিত রেখেছে। এইচএসসি পরীক্ষাও ১০ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত আছে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব হতাহত ও হামলার ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আবার প্রশ্ন উঠেছে ছাত্রদের আন্দোলন কেন অরাজনৈতিক থেকে রাজনৈতিক রূপ পেল, এই রাজনৈতিক শক্তির নেপথ্যে কারা আছে সেসব বিষয়ে। তাই আমরা বলব, ন্যায় বিচারের জন্য যে কোনো ঘটনার সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন। হত্যা ও নাশকতার সুষ্ঠু বিচার হতে হলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। যদিও সরকার বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন করেছে। তাই জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলেও প্রকৃত সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

কাজেই প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে নয়, সুশাসনের স্বার্থেই নিরপেক্ষ তদন্ত অতিব জরুরি। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে দেশে যে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে, সেটা তখনই সফল হবে, যখন শিক্ষার্থী ও জনগণ দেখবে যে সরকার বলপ্রয়োগের পথ থেকে সরে এসেছে। তাই সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইলে প্রথম কাজটি হচ্ছে বলপ্রয়োগের পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে আরও জটিল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, যা কোনো পক্ষের জন্যই সুখকর হবে না। উপরন্তু মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা কোনো প্রকার সহিংসতা চাই না, এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ