কোরবানির মাংস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে যা করবেন
কোরবানির ঈদের সময় মাংস সংরক্ষণ একটি বড় কাজ, তবে যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ও ছোটখাটো কিছু ভুলে অনেক সময় মাংসের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায় কিংবা দুর্গন্ধ ছড়ায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ম মেনে মাংস সংরক্ষণ করলে এসব সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো ঈদের আগে ফ্রিজার পরিষ্কার না করা। ফ্রিজে আগে থেকে জমে থাকা খাবার বা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভর্তি থাকায় কোরবানির মাংস রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। তাই ঈদের অন্তত এক থেকে দুই দিন আগেই ফ্রিজ খালি ও পরিষ্কার করে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো কাটার পরপরই গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজারে রেখে দেওয়া। এতে ফ্রিজের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, যা অন্য খাবারের মান নষ্ট করতে পারে। তাই মাংস কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর প্যাকেজিং করা উচিত। আবার ফ্রিজারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাংস গাদাগাদি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে মাংস ঠিকমতো জমে না এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাগ না করা আরেকটি বড় ভুল। অনেকে কিমা, কলিজা ও হাড়সহ মাংস মিশিয়ে ফেলেন, যা পরে খুঁজে পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর পরিবর্তে প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে নাম লিখে লেবেলিং করে রাখা ভালো। পাতলা প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার না করে ফুড-গ্রেড জিপলক ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ পাতলা ব্যাগ সহজে ছিঁড়ে মাংসের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে।
এছাড়া মাংসের প্যাকেট গোল বা উঁচু নিচু করে না রেখে সমান বা ফ্ল্যাট করে রাখলে তা দ্রুত জমে এবং ফ্রিজারে জায়গাও কম নেয়। ফ্রিজারের ভেতর রক্ত বা ঝোল যাতে না গড়ায়, সেজন্য ট্রের ওপর পলিথিন বা কাগজ বিছিয়ে রাখা উচিত। সবশেষে, ঈদের সময় ঘনঘন ফ্রিজার খোলার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। এতে তাপমাত্রা ওঠানামা করে, ফলে মাংসের সতেজতা দ্রুত কমে যেতে পারে। তাই মাংস ব্যবহারের সুবিধার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করে সাজিয়ে রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতনতা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে দীর্ঘ সময় কোরবানির মাংস নিরাপদ ও সতেজ রাখা সম্ভব।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে