গোল মিস করে মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার কাম্পাজ
বিশ্বকাপে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করার মাশুল দিতে হচ্ছে কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড হামিন্তন কাম্পাজকে। ইনস্টাগ্রামে নিজেই জানিয়েছেন, একটিমাত্র মিসের কারণে তাঁর জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে; নিয়মিত পাচ্ছেন মৃত্যুর হুমকি।
গত ৭ জুলাই ভ্যাংকুভারের বিসি প্লেসে রাউন্ড অফ ১৬-এর ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন কাম্পাজ। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়, এরপর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। নিজের নেওয়া পেনাল্টি অবশ্য ঠিকই জালে জড়ান কাম্পাজ, কিন্তু দলকে বাঁচাতে পারেননি।
ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক মাধ্যমে নেমে আসে সমালোচনার ঝড়, যা একপর্যায়ে রূপ নেয় সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিতে। শুধু কাম্পাজ নন, হুমকির শিকার হয়েছে তাঁর পরিবারও। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে নিরাপত্তার শঙ্কায় দলের সঙ্গে দেশে ফেরার ফ্লাইটও এড়িয়ে যান এই মিডফিল্ডার।
দুই দিন পর ইনস্টাগ্রামে মুখ ঢেকে একটি ছবি পোস্ট করে কাম্পাজ লেখেন, "ফুটবলে কঠিন মুহূর্ত আসেই। প্রিয় কলম্বিয়া, দয়া করে কখনো সম্মানবোধ হারিয়ো না। আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে, হতাশা কিংবা কষ্টও পেতে পারি—কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা ভয়ে বেঁচে থাকাকে সমর্থন করে না।"
কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কাম্পাজের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার তদন্তে অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। এক বিবৃতিতে ফেডারেশন জানায়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে কোনো খেলোয়াড় বা তাঁর পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সমর্থকদের প্রতি তাদের আহ্বান, মাঠের হতাশাকে যেন বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপান্তরিত করা না হয়।
এই ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯৪ সালের সেই মর্মান্তিক অধ্যায়ের কথা, যখন নিজের গোলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার নেপথ্যে থাকা কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তিন দশক পরও ফুটবল-আবেগ যে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে, কাম্পাজের অভিজ্ঞতা তারই এক তিক্ত প্রমাণ।
মতামত দিন