Views Bangladesh Logo

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। এখনো ৪৯৬ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৃতীয় দিনেও ধ্বংসস্তূপের নিচে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। এ সময় দেশটির সরকারি ভবন ও কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং জীবিতদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী কম্পনে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর বাইরে পেরেইরা ও ক্যালির মতো এলাকাতেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা শনাক্ত করতে ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ও উদ্ধারকর্মীদের মানবশৃঙ্খল ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৯ হাজারের বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও কয়েক দশ হাজার বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন।

উদ্ধার অভিযান ঘিরে আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। মেক্সিকোর একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী দল ক্যালিতে পৌঁছে স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে সহায়তার প্রস্তাব এলেও কোন দেশ থেকে কী ধরনের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে, তা নিয়ে কলম্বিয়া সরকার নিজস্ব পরিচালনাগত মানদণ্ড অনুসরণ করছে।

এদিকে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভবন ধসের ঝুঁকি, যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কার মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ