কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১১১, ধ্বংসস্তূপে ৬০০ স্থাপনা
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮৭ জন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে দেশটির বিভিন্ন শহরে এক হাজার ৬০০টির বেশি ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০০ কিলোমিটার। দেশটির ২১ শতকের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের কম্পন কেবল পশ্চিমাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেশী ইকুয়েডরসহ আশপাশের কয়েকটি দেশেও এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ২১টি আফটারশক আঘাত হানে। এতে উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ক্যালি ও পেরেইরায়। ক্যালিতে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। একটি হাসপাতালের অংশবিশেষসহ চিকিৎসাকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে পেশাদার উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে এসেছেন। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পেতে সময় লাগছে।
রিসারালদা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পেরেইরায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। ভালে দেল কাউকা বিভাগে ২৭ জন এবং মানিজালেসে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় পেরেইরা বিমানবন্দরের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানিজালেসের ঐতিহাসিক একটি ক্যাথেড্রালের মিনারও ধসে পড়েছে।
ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কোথাও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিতদের উদ্ধারে হাত দিয়ে ইট ও কংক্রিট সরাতে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত দলগুলো ধসে পড়া ভবনগুলোতে জীবিত মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
নতুন দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবোলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। উদ্ধার অভিযানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধরনের এই দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে তাঁর সরকার।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়াকে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া এল সালভাদর, মেক্সিকো ও চিলিসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে সেসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে আরও সময় লাগতে পারে। ধসে পড়া ভবনের নিচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি অব্যাহত রেখেছেন।
ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পরিদর্শন, আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে সমন্বিতভাবে কাজ করছে দেশটির বিভিন্ন সরকারি সংস্থা। একই সঙ্গে আফটারশকের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে মানুষকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মতামত দিন