শীতে কাবু রাজশাহীর জনজীবন, শীতবস্ত্রের অভাবে বিপাকে দুস্থরা
চলমান শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহীর জনজীবন। কুয়াশার ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকলেও হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে বহুগুণ। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দুস্থ ও খেটে-খাওয়া মানুষ।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর রেলস্টেশনে দেখা যায়, প্লাস্টিকের বস্তা গায়ে জড়িয়ে প্রায় ৭০ জন মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। শীতে কাঁপতে দেখা গেছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, শীতের তীব্রতায় রাজশাহী জেলার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শহর ও গ্রামের চিত্রে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। সবখানেই শীতের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে-খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো মানুষের দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই।
পাবনার ঈশ্বরদী থেকে আসা ৫০ বছর বয়সী এক নারী রাজশাহী রেলস্টেশনের মূল ফটকের সামনে প্লাস্টিকের বস্তা গায়ে জড়িয়ে শুয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, আমার তিনবার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। ঠিকমতো কথা বলতে পারি না, হাত-পাও কাজ করে না। একটি কম্বল পেলে অনেক উপকার হতো।
রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বিতরণ করতেন। এতে প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রকৃত দুস্থ মানুষ সহায়তা পেতেন, কারণ তারা পরিচয় শনাক্ত করতে পারতেন। বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকায় সঠিক যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভুল মানুষ সুযোগ নিচ্ছে।
এদিকে, এই এলাকায় বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবীদের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলস্টেশনের এক কুলি জানান, তিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্টেশনে কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার শীতবস্ত্র বিতরণে অনিয়ম চোখে পড়ছে।
তিনি বলেন, রাত ১২টা পর্যন্ত অনেকে কম্বলের জন্য শুয়ে থাকেন। যারা প্রকৃত অসুস্থ ও গরিব, তারা ঠিকমতো একটি কম্বল পান না। অথচ কেউ কেউ এটাকে পুঁজি করে ব্যবসা করছে—একাধিক কম্বল পেয়ে তা কুলি, গাড়ির স্টাফ, দোকানদার কিংবা অটোরিকশাচালকদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। সঠিক ব্যক্তিকে কম্বলটি দিলে মানুষের উপকার হয়।
এক অটোরিকশাচালক জানান, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা শীতবস্ত্র বিতরণ করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার রাতে স্টেশনে থাকা বেশির ভাগ মানুষের গায়েই কোনো কম্বল দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারাও একই অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে দিনমজুর ও ভাসমান মানুষ বাধ্য হয়ে এই প্রচণ্ড শীতেও কাজের সন্ধানে বের হচ্ছেন। এ অবস্থায় অসহায় মানুষের জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ ও জরুরি সহায়তার দাবি জানান তারা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে