সহপাঠীর আত্মহত্যা: ব্রাইট স্কুলে বিক্ষোভ-ভাঙচুর, মামলা
রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া এলাকায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভাঙচুর চালান এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েই ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
নিহত স্কুলছাত্রীর নাম সাবিকুন নাহার (১৬)। সে ওই বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানায়, বুধবার দনিয়ার নাসির উদ্দিন রোডে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সাবিকুন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বুধবার পরীক্ষা চলাকালে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা হল থেকে ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ভর্ৎসনা ও গালিগালাজ করেন। পরে স্কুলে ডেকে পাঠানো হলে তার মা-ও তাকে বকাঝকা করেন। এই দ্বৈত অপমান সহ্য করতে না পেরেই সাবিকুন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
সহপাঠীর মৃত্যুতে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ও অধ্যক্ষ মঈদুল হাসান রানার শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের পুরোনো ও নতুন দুটি ভবনের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। পরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘কেন মরল সাবিকুন নাহার, লিটন তোর চাই’ এবং ‘সাবিকুনের বিচার চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ভবনের কিছু অংশে ভাঙচুর চালান এবং চেয়ারম্যানকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা সে সময় পুলিশের কাছ থেকে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এক বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, চেয়ারম্যান নিয়মিত ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করতেন, যা ইভটিজিংয়ের শামিল। আরেক শিক্ষার্থীর দাবি, পরীক্ষার হলে সাবিকুন কোনো নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করেনি, তারপরও তাকে মৌখিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রীটি পড়াশোনায় অমনোযোগী ছিল এবং পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছিল। শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর কথা বলার জন্য আমি তার মাকে স্কুলে ডাকি। বাড়ি ফেরার পর তার মা হয়তো তাকে বকাঝকা করেছে, সেটা থেকেই হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।”
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করেছে এবং পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাবিকুনের বাবা খলিলুর রহমান জানান, মায়ের বকা খেয়েই তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরও জানান, বারবার চেষ্টা করেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা যাচ্ছিল না এবং অনেকের মনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পুরোনো ক্ষোভ থাকতে পারে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে