Views Bangladesh Logo

সিট পরিবর্তন নিয়ে নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রদলের এক নেতাসহ অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম। আহত সামিউলকে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ২টার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষে সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, রাত ৩টার দিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতকে মারধর করেন। পরে তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এরপর পকেট গেট এলাকায় সামিউল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ঠোঁট ফেটে যায়। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসানও মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা আনিসুর রহমান সিফাত অভিযোগ করেন, সিট নিয়ে সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হাসান দাবি করেন, সমাধান হয়ে যাওয়ার পরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল এসে দায়িত্বশীল এক নেতার ওপর হামলা চালায়। বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন বলেও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। হলের প্রভোস্ট বডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ