দুই মামলায় জামিন পেলেন চিন্ময় দাস
হাইকোর্টে আরও দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তবে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন থাকায় এই জামিনের পরও এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
রোববার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ৩ আগস্ট একই বেঞ্চ ভাঙচুর, হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার দুই মামলায় চিন্ময় দাসকে জামিন দেন। এ নিয়ে চারটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন তিনি।
চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় তিনি হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত রয়েছে। আর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার চলছে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।
আইনজীবীরা জানান, বিচারাধীন মামলাগুলোর কারণে হাইকোর্টে জামিন পেলেও এখনই কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না চিন্ময় দাস। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার মধ্য দিয়ে চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন তৎকালীন চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।
ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নাকচ হয়। এ সময় তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যে আদালত-সংলগ্ন এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায়ও চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
এ ছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের করা তিনটি ও আলিফের ভাইয়ের করা একটি মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মতামত দিন