চীন ও রাশিয়ার মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে সমঝোতা
চীন ও রাশিয়ার মধ্যে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ পরিকল্পনা নবায়নসহ ২০টিরও বেশি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক সহযোগী জানিয়েছেন, দুই দেশ ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পুতিনের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা তৈরি হয়েছে।’ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি জানান, এই সমঝোতার মধ্যে পাইপলাইনের রুট এবং নির্মাণ পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইনটি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা দেশগুলো গ্যাস কেনা বন্ধ করে দিলে বিকল্প বাজার খুঁজতে গিয়ে মস্কোর অগ্রাধিকার তালিকায় উঠে আসে। পশ্চিম সাইবেরিয়ার ইয়ামাল উপদ্বীপ থেকে মঙ্গোলিয়া হয়ে চীনের উত্তরাঞ্চলে গ্যাস পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে এই পাইপলাইনের।
২০১৯ সালে চালু হওয়া ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ১’ পাইপলাইনের পাশাপাশি এই নতুন প্রকল্পটি কাজ করবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম ও চীনের সিএনপিসি প্রথম পাইপলাইনের সরবরাহ বার্ষিক ৩৮ বিলিয়ন থেকে ৪৪ বিলিয়ন ঘনমিটারে বাড়ানোর বিষয়েও চুক্তি করেছে।
২০২১ সালে চীনের মোট গ্যাস আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুন নাগাদ চীনের মার্কিন জ্বালানি আমদানি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে, যা রুশ-চীন জ্বালানি সম্পর্ককে আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের মূল্য, বিনিয়োগের শর্ত এবং সরবরাহ শুরুর সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষ এখনো একমত হতে পারেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইনটির মাধ্যমে গ্যাস রপ্তানি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়াতে রাশিয়ার কমপক্ষে এক দশক লেগে যেতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মাত্র চার দিনের মধ্যেই ১৯ মে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছান পুতিন। বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনারের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর। চলতি বছরে এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।
বুধবার সকালে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুতিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলেন। জবাবে শি বলেন, উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের পথে দুই দেশের উচিত একে অপরকে সহযোগিতা করা।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, পুতিনের এই সফর ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত মস্কো-বেইজিংয়ের ‘সদ্ভাব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবেও আয়োজিত হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে