২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ট্রাম্পের
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু গোপন গোয়েন্দা তথ্য গতকাল বৃহস্পতিবার জনসমক্ষে আনেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। তবে ট্রাম্পের এমন দাবি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্বের পর্যালোচনার সম্পূর্ণ বিপরীত।
নথিগুলো প্রকাশের পর ট্রাম্প দাবি করেন, এই তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার মারাত্মক দুর্বলতা প্রকাশ করে। তাঁর অভিযোগ, চীন অবৈধভাবে নাম, ঠিকানা ও ভোটার নিবন্ধন রেকর্ডসহ প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চীনের এমন তৎপরতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখার অভিযোগ তোলেন তিনি ।
তবে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি অবমুক্ত করা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, চীনসহ কোনো বিদেশি সরকারই ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থা, ব্যালট পেপার, ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফলাফলে পরিবর্তন আনার মতো কোনো কারিগরি হস্তক্ষেপ করেনি। তৎকালীন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক এবং বর্তমান সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফের অধীনে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে ভোট কারচুপির কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৮ সাল থেকে চীন মার্কিন ভোটার, জনমত, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন রাজনীতির গতিধারা পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচনের ফলাফল অনুমান করা, সরাসরি নির্বাচনে প্রভাব খাটানো নয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ট্রাম্প যে ভোটার তথ্যের কথা উল্লেখ করেছেন তা মোটেও গোপনীয় কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই এই ধরনের ভোটার ডেটাবেইস কিনে থাকে। ফলে এই তথ্য ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেওয়া অসম্ভব বললেই চলে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের এই ঘোষণার আগে হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, চীন সম্পর্কিত এসব তথ্য প্রকাশ করলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
এদিকে চীনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গিউ এক বিবৃতিতে জানান, বেইজিং কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই।
মতামত দিন