Views Bangladesh Logo

চীনে টাইফুনের প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা, নিহত বেড়ে ১৭

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি প্রদেশে শক্তিশালী টাইফুন 'মাইসাক'-এর প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে হাজারো বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রবিবার থেকে শুরু হওয়া রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাতে গুয়াংসির রেনহে গ্রামের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। রাতারাতি পানি হাঁটু পর্যন্ত উঠে যায় এবং ভোরের মধ্যেই বহু বাড়ির প্রথম তলা সম্পূর্ণ ডুবে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ঝৌ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, বন্যা এত দ্রুত হয়েছে যে মানুষজন খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ারও সময় পাননি, কেবল জীবন বাঁচাতে তাদের এলাকা ছাড়তে হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সপ্তাহে চীনে আঘাত হানে শক্তিশালী টাইফুন 'মাইসাক'। এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারান এবং চারজনের মৃত্যু হয়।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, টাইফুনের প্রভাবে বর্তমানে গুয়াংজি ঝুয়াং অঞ্চলের নাননিং শহর ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকার বহু মানুষকে বহুতল ভবনের ছাদে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। এছাড়া দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখনও বহু বাসিন্দা আটকা পড়ে আছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়াও কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুয়াংসি প্রদেশেই ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মোট ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৯০ হাজারেরও বেশি।

এদিকে টাইফুন মাইসাকের প্রভাবে গুয়াংসির পাশাপাশি হুবেই প্রদেশেও তীব্র বজ্রঝড় ও টর্নেডো আঘাত হেনেছে। এই বিপর্যয়ের মাঝেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট আরেকটি শক্তিশালী ঝড় 'সুপার টাইফুন বাভি'। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টি দ্রুত চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে এবং যেকোনো সময় তা আঘাত হানতে পারে।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ‘সর্বাত্মক’ চেষ্টা চালানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে নাননিংয়ের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই চীনে ইদানীং এ ধরনের আবহাওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ঘন ঘন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতি ও কৃষি খাতের জন্য বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ