জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: হাসপাতালে ফের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ১৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে আবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে ঘিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে আহত শিবির নেতাকর্মীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুপুর ২টার দিকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায়।
সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইয়াসিন সাইফসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। তারা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুল হক বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যান, উপাচার্য ও প্রক্টরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে দাবি-দাওয়া উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের উদ্যোগ ব্যাহত করতে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের দাবি, তারা ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে আবাসন সংকট ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার দাবি জানাতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
এদিকে হাসপাতালের ভেতরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মতামত দিন