শিক্ষা
গিলোটিনের গুরুর গর্দান আর কত?
অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নানা নৈরাজ্য এখনও দৃশ্যমান। পালাবদলের পটভূমিতে রাষ্ট্রযন্ত্র এখনও অনেকটা নিস্ক্রিয়। যে শূণ্যতায় আংশিক হলেও চলমান উন্মত্ত জনতার শাসন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অরাজকতা ও উন্মত্ততা কিছুটা থিতু হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা এখনও বিদ্যমান। প্রতিদিনই কোনা না কোনো শিক্ষককে নাজেহাল হতে হচ্ছে। অতি উৎসাহী ছাত্ররা নিজ ইচ্ছায় অথবা কারও প্ররোচনায় শিক্ষককে অবরুদ্ধ করছেন, অপমান করছেন, পদত্যাগে বাধ্য করছেন। কোথাও কোথাও শিক্ষককে সরিয়ে শিক্ষার্থী নিজেও শিক্ষককের চেয়ারে বসে পড়ছেন। কী সব বিভৎস কাণ্ডকারখানা, অকল্পনীয় নৈরাজ্য।
‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা’
ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ধ্রুবজিৎ কর্মকারের আত্মহত্যা আমাদের সামনে শুধু একটি করুণ মৃত্যুর খবর নয়, এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার এক নির্মম, অন্ধকার আয়নাঘরের সন্ধান দেয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবির সমন্বয়ক লাবিবকে অব্যাহতি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর অন্যতম সমন্বয়ক আহসান লাবিবকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতায় অংশগ্রহণের অভিযোগ থাকায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঢাবিতে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গণতন্ত্র ও শিক্ষার অধিকার পরস্পর সম্পর্কিত
বর্তমান অবস্থাকে অনেকে অনেকভাবে ব্যাখ্যা করছেন। অনেকে অনেক শব্দ ব্যবহার করছেন- অভ্যুত্থান, বিপ্লব। কেউ কেউ হয়তো অন্য শব্দও ব্যবহার করছেন। স্বাধীনতাও বলছেন দু-চারজন। এই অবস্থায় আসার আগে আমরা যে অবস্থায় ছিলাম সেটাকে যদি স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদ বলি, তাহলে বর্তমান অবস্থাকে কী বলব? বর্তমান অবস্থাকে আমরা বলব গণতন্ত্র। প্রাথমিক অবস্থায়। কেউ উচ্চাভিলাষী হলে অন্য কিছু বলবেন। আমি আপাতত গণতন্ত্রই বলছি।
সামাজিক ন্যায়ের যুক্তিতেই কোটা প্রয়োজন
সংরক্ষণ বা কোটা নিয়ে সারা দেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা প্রতিদিনই রাজপথে অবরোধ-বিক্ষোভ করছেন। ঢাকা শহরে গত কয়েকদিন ধরেই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও অবরোধের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে সীমাহীন যানজট। সবার সব ক্ষোভ গিয়ে জমা হচ্ছে সরকারের ওপর। কোটা ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলনে দুর্ভোগে পড়া মানুষজনের প্রশ্ন, সরকার কেন কোটা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসছে না? এদিকে সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা বলছেন, কোটা বাতিল করা না-করার সিদ্ধান্তটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। এটা ফয়সালা করবে আদালত। সরকারের এ ব্যাপারে কোনো কিছু করার নেই।
নতুন স্কিম নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার বিকল্প নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষকরা বৈষম্যমূলক সর্বজনীন পেনশন ‘প্রত্যয় কর্মসূচি’ প্রত্যাহারের দাবিতে ব্যাপক ধর্মঘট পালন করছে ১ জুন থেকে। প্রত্যয় বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকরা এখন ‘সুপার গ্রেডে’ অন্তর্ভুক্তি ও স্বতন্ত্র বেতনকাঠামোর দাবি তুলছেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির ডাকে এ ধর্মঘট হচ্ছে ১ জুলাই থেকে। সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য নতুন প্রকল্পটি কি সত্যিই বৈষম্যমূলক ও ক্ষতিকর নয়? এ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা যাক।
বিদেশে লেখাপড়া: যেন স্বপ্নের আবরণে মোড়া এক দুঃস্বপ্ন
বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে দেশের বাইরে লেখাপড়া করতে যাওয়া একটি সুখস্বপ্নের মতো। বিভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতি থেকে আসা নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ, নতুন জীবনযাপন পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা, নতুন নতুন জায়গা ঘোরার সুযোগ এবং ভিন্ন পরিবেশে শিক্ষালাভের সুযোগ- এগুলোর প্রত্যেকটিই বেশিরভাগ তরুণের মধ্যে এক অমোঘ আকর্ষণ সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।
বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না হলে অগ্রগতি রুদ্ধ হয়ে যাবে
আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কয়েকটি শ্রেণিতে একটি নতুন কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠ্যসূচি এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে বিধায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আমার এককালের সহকর্মী শেখ আজিজুল হক, জহুরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মিঠুন দাসের অনুরোধে এই বিষয়ে লেখার গরজ বোধ করছি। মুখস্তনির্ভর শিক্ষা পদ্ধতির স্থলে সৃজনশীল শিক্ষাক্রম চালু করার অভিপ্রায়ে নতুন কারিকুলামের প্রবর্তন। ক্লাসে ভয়ভীতি দূর করে আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করাও এই শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য। নতুন শিক্ষাক্রমে লিখিত বার্ষিক পরীক্ষার চেয়ে শিখনকালীন ব্যবহারিক জ্ঞান ও ক্লাসে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সুফল কাজে লাগাতে হবে
বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। প্রত্যেক জাতির জীবনে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একবারই আসে। কারও কারও মতে, একটি জাতির জীবনে হাজার বছরে একবার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার সৃষ্টি হয়। যে জাতি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারে তারাই অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতির শিখরে উন্নীত হতে পারে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলতে এমন একটি অবস্থাকে বুঝায় যেখানে একটি দেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশির বয়স থাকে ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যদি বেশি থাকে তাহলে সেই অবস্থাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা যখন শিশু ও বৃদ্ধদের চেয়ে বেশি তখন সেই অবস্থাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা যেতে পারে।
