এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে এজাহার জমা দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
এজাহারে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার জমা দেওয়ার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রাতের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলে দেশে অন্তত কিছুটা হলেও আইনের শাসন রয়েছে বলে মনে করব। অন্যথায় সরকারকে ‘মাফিয়া সরকার’ হিসেবে বিবেচনা করব।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় পথসভা শেষে ফেরার পথে সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নিলে পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে।
হামলার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে এনসিপি অভিযোগ করেছে, এতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত কর্মী আলিফ আহমেদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বুধবার মৌলভীবাজারের নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় এনসিপি। পাল্টা কর্মসূচি দেয় জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
মতামত দিন