গ্রুপ-এইচ
রক্ষণ আর লড়াকু মানসিকতায় ভরসা কেপভার্দের
আফ্রিকা মহাদেশের ছোট কিন্তু উদীয়মান ফুটবল শক্তি কেপভার্দে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান ধীরে ধীরে শক্ত করছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দলটির অবস্থান ৬৯তম। দলটি তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, লড়াকু মানসিকতা এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য পরিচিত। শারীরিকভাবে শক্তিশালী না হলেও দলীয় সংগঠন ও কঠোর পরিশ্রম তাদের বড় শক্তি। অভিজ্ঞ ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি বড় দলগুলোর বিপক্ষে চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
কেপভার্দের এবারই প্রথম বিশ্বকাপ। তবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে তারা নিয়মিতভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করে তারা ফুটবল বিশ্বে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
শক্তিমত্তা
কেপভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত শৃঙ্খলা। ডিফেন্সে তারা খুবই সংগঠিতভাবে খেলে এবং প্রতিপক্ষকে সহজে জায়গা দেয় না। মাঝমাঠে কঠোর পরিশ্রম ও বল দখলের লড়াই তাদের মূল ভিত্তি। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে তারা সুযোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠা তাদের প্রধান কৌশল। সেট-পিস থেকেও তারা কিছুটা কার্যকর।
দুর্বলতা
তবে কেপভার্দের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং বল নিয়ন্ত্রণে তারা বড় দলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। আক্রমণে ধারাবাহিক ফিনিশিংয়ের অভাব রয়েছে, ফলে তারা অনেক সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়। বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে। এছাড়া দ্রুতগতির ও টেকনিক্যাল দলের বিপক্ষে রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছেন। গোলপোস্টে ভোজিনহা দলের নির্ভরযোগ্য ভরসা, যিনি আজারবাইজানের ক্লাব জিরা এফকে-এর হয়ে খেলেন। ডিফেন্সে স্টিভেন ফোর্টেস ফ্রান্সের ক্লাব গিংগাম-এর হয়ে রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাঝমাঠে রায়ান মেন্ডেস তুরস্কের ক্লাব কোচেলিস্পোর-এর হয়ে খেলে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আক্রমণে দ্যালন লিভ্রামেন্তো ইতালির ক্লাব হেলাস ভেরোনা-এর হয়ে খেলেন এবং দলের প্রধান গোলদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গ্রুপ প্রতিপক্ষ
গ্রুপ এইচ-এ কেপভার্দের প্রতিপক্ষ স্পেন, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। এই গ্রুপে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শক্তিশালী স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলা। স্পেনের বিপক্ষে বল দখল ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হবে। তাই তাদের বিপক্ষে নিজেদের জাল সামলানোই হবে প্রধান কাজ। উরুগুয়ের আক্রমণ সামলানো সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে তাদের। তাই রক্ষণভিত্তিক কৌশল ও কাউন্টার অ্যাটাকই ভরসা। সৌদি আরবের বিপক্ষে তুলনামূলকভাবে লড়াইয়ের সুযোগ থাকলেও ম্যাচে পয়েন্ট পেতে সংগ্রাম করতে হবে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
কেপভার্দের শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলা বড় দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যদি তারা রক্ষণভাগ ধরে রেখে আক্রমনে সীমিত সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে অন্তত পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার গৌবর আনতে পারে। যা তাদের ভবিষ্যত আত্মবিশ্বাস বাড়লে ও বড় সাফল্যের পথে এগোতে সাহায্য করবে।
মতামত দিন