Views Bangladesh Logo

পরিচিত শব্দও মনে পড়ছে না? জেনে নিন ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’ আসলে কী, কেন এমন হয়?

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

অনেক সময় খুব পরিচিত কোনো মানুষ, জায়গা কিংবা শব্দের নাম জানা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের মুহূর্তে সেটি মনে আসে না। অথচ সেই শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক তথ্য ঠিকই মনে থাকে। মনে হয়, নামটি যেন জিভের ডগায় এসে আটকে আছে। কিছুক্ষণ পর কোনো চেষ্টা ছাড়াই হঠাৎ সেটি মনে পড়ে যায়। দৈনন্দিন জীবনের এমন অভিজ্ঞতাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’।

কেন এমন হয়?
মস্তিষ্কে কোনো শব্দ মনে করার জন্য স্মৃতিতে সংরক্ষিত তথ্য এবং ভাষা প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অংশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। কখনো এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর হয়ে গেলে জানা শব্দটিও মুহূর্তের জন্য মনে করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এর অর্থ সবসময় এই নয় যে শব্দটি স্থায়ীভাবে ভুলে গেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মধ্যে এমন অভিজ্ঞতা হওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের তথ্য খুঁজে বের করার গতি কিছুটা কমতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ক্লান্তি ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও সাময়িকভাবে স্মৃতি থেকে তথ্য উদ্ধারের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

‘জিভের ডগায় আটকে থাকা’ মুহূর্তে মস্তিষ্কে আসলে যা ঘটে
এই বিশেষ অবস্থায় মস্তিষ্ক স্মৃতিভাণ্ডারে জমা থাকা নির্দিষ্ট শব্দটিকে ক্ষণিকের জন্য খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়। এর অর্থ এই নয় যে শব্দটি একেবারে ভুলে গেছেন—বরং সেই মুহূর্তে শব্দটি স্মরণ করার প্রক্রিয়ায় একধরনের সাময়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। প্রায়ই দেখা যায়, শব্দটির সঙ্গে জড়িত নানা তথ্য মাথায় স্পষ্টভাবেই থাকে, তবু ঠিক শব্দটি মুখ ফুটে বের হয় না। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিশেষ কোনো চেষ্টা ছাড়াই সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে শব্দটি নিজে থেকেই মনে পড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শব্দ খুঁজে বের করার এই কাজে মস্তিষ্কের ভাষা ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন অংশের মধ্যে সুসমন্বিত সংযোগ থাকা জরুরি। এই সমন্বয় প্রক্রিয়া কোনো কারণে সাময়িকভাবে ধীর হয়ে পড়লেই শব্দটি যেন নাগালের বাইরে চলে যায়—এমনটাই অনুভূত হয়। মূলত এই ঘটনাকেই বলা হয় ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’ বা জিভের ডগায় শব্দ আটকে থাকার অভিজ্ঞতা।

কখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে?
কদাচিৎ কোনো শব্দ মনে না পড়লে সাধারণত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। কিন্তু পরিচিত নাম, শব্দ বা তথ্য মনে করতে সমস্যা যদি নিয়মিত হতে থাকে, সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে কিংবা স্বাভাবিক কথাবার্তায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে স্মৃতিভ্রংশের পাশাপাশি চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা কিংবা দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, উদ্বেগ বা বিষণ্নতা, শ্রবণজনিত সমস্যা এবং অনিয়ন্ত্রিত কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঙ্গেও এ ধরনের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

কখন নিউরোলজিস্টের কাছে যাবেন?
বারবার পরিচিত মানুষের নাম বা সাধারণ শব্দ ভুলে যাওয়া, বাক্য গুছিয়ে বলতে না পারা কিংবা কথোপকথনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। একই সঙ্গে কাছের মানুষেরা যদি স্মৃতিশক্তি বা আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। পরিচিত জায়গায় গিয়ে পথ চিনতে না পারা, অস্বাভাবিক বিভ্রান্তি কিংবা আগে সহজে করা দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা হওয়া আরও সতর্ক হওয়ার সংকেত। তবে শব্দ মনে করতে না পারার সমস্যা যদি হঠাৎ শুরু হয় এবং এর সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের কোনো অংশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা তীব্র বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তাহলে এটি স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

তখন কী করবেন?
কোনো শব্দ মনে না পড়লে বারবার জোর করে সেটি মনে করার চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া যেতে পারে। শব্দটির পরিবর্তে তার অর্থ বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া ভালো। অনেক সময় কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিকভাবেই কাঙ্ক্ষিত শব্দটি মনে পড়ে যায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্কের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। পাশাপাশি নতুন কিছু শেখা ও নিয়মিত মানসিকভাবে সক্রিয় থাকার অভ্যাসও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তাই মাঝেমধ্যে কোনো পরিচিত শব্দ জিভের ডগায় এসে আটকে গেলেই ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে এ ঘটনা ঘন ঘন ঘটলে, ক্রমশ বাড়লে বা অন্য কোনো স্মৃতি ও ভাষাগত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ