বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি কানাডা-কাতার
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা ও কাতার। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে তিন পয়েন্টের বিকল্প নেই।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে কাতারকে আতিথ্য দেখাতে মাঠে নামে কানাডা।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোবিনার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করেছিল সহ-আয়োজক কানাডা। একই ব্যবধানে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে কাতারও। ফলে উভয় দলের সংগ্রহ বর্তমানে ১ পয়েন্ট করে।
এদিকে দিনের অন্য ম্যাচে বসনিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে সুইজারল্যান্ড। সেই ফলের কারণে কানাডা ও কাতারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে স্বাগতিক কানাডার জন্য এই ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কোনো ফল হতাশাজনক হিসেবে বিবেচিত হবে।
কানাডার কোচ জেসি মার্শের দল ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে বেশ কিছু ইতিবাচক ফল পেয়েছে কানাডা। দর্শকদের সমর্থন, দ্রুতগতির আক্রমণ, উচ্চ-চাপের প্রেসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলই কানাডার প্রধান শক্তি। তবে ঘরের মাঠে জয়ের প্রত্যাশা কখনো কখনো অতিরিক্ত চাপও তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে কাতারও আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র তাদের লড়াকু মানসিকতারই প্রমাণ দিয়েছে। কোচ হুলেন লোপেতেগুইয়ের অধীনে দলটি সাধারণত ৪-৪-২ অথবা ৪-২-৩-১ ছকে খেলে থাকে। রক্ষণে শৃঙ্খলা ও বল ছাড়া কঠোর পরিশ্রমই তাদের কৌশলের মূল ভিত্তি।
২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০১৯ ও ২০২৩ সালে টানা দুটি এএফসি এশিয়ান কাপ জয়ের অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলা ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশ পরিণত।
কাতারের সবচেয়ে বড় ভরসা আক্রমণভাগের তারকা আক্রম আফিফ। আল সাদের এই ফরোয়ার্ড দুইবার এএফসি বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন এবং ২০২৩ এশিয়ান কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে টুর্নামেন্টসেরার স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন। ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তার।
সব মিলিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর সমীকরণে ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে ঘরের মাঠে কানাডার জয়ের চাপ, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী কাতারের চ্যালেঞ্জ—সবকিছু মিলিয়ে দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে উত্তেজনাপূর্ণ এক লড়াই। জয়ী দল নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় একটি পদক্ষেপ এগিয়ে যাবে।
মতামত দিন