Views Bangladesh Logo

‘ট্রাম্পে বদলে যাওয়া’ কানাডায় চলছে গুরুত্বপূর্ণ ভোট

মেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যক্রম এবং বাগ্মিতায় নাটকীয়ভাবে পুনর্গঠিত গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন কানাডিয়ানরা।

সোমবারের (২৮ এপ্রিল) নির্বাচনে কেন্দ্রীয় চরিত্র দখল করে নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি উত্তরের প্রতিবেশী দেশটির পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ বানানোর ধারাবাহিক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন, যা কানাডীয়দের জাতীয়তাবাদে ঘাঁ বসিয়েছে এবং ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

উত্তেজনা এমনকি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় হকি খেলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের সময় দুয়োধ্বনিও শোনা গেছে। কয়েক দশক ধরে স্থিতিশীল যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক হঠাৎ করে কতোটা বদলে গেছে, তারই প্রতীক এসব ঘটনা।

বছরের শুরুতে বিশাল জয়ের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হয়েছিল কনজারভেটিভ পার্টি। তবে, গত সপ্তাহে লিবারেলদের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতাটি যথেষ্ট তীব্র হওয়ার পর চূড়ান্ত জরিপে দেখা যাচ্ছে, লিবারেলরা সামান্য এগিয়ে আছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে অঙ্গরাজ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যই রাজনৈতিক দৃশ্যপট উল্টে দেয়ার মূল কারণ। এবং এসব ঘটনাই মার্ক কার্নির লিবারেল পার্টির পালে হাওয়া যোগাচ্ছে।

যদিও কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পোইলিভরেও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। জোর দিয়ে বলেছেন, তার দল এখনও জয়লাভ করতে পারে।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে ভ্যাঙ্কুভারে মর্মান্তিক গাড়ি ধাক্কায় ১১ জন নিহতের ঘটনার পর ৩৬ দিনের প্রচারণা বিষণ্ণতার মাঝে শেষ হয়েছে। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে হ্যামিল্টনে রোববারের (২৭ এপ্রিল) পূর্বপরিকল্পিত যাত্রা বাতিল করেছেন কার্নি। স্থানীয় ফিলিপিনো উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে করা এই হামলা প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে শোকের ছায়াও ফেলেছে।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় মিসিসাগায় ফিলিপিনো সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাথে দেখা করতে প্রচারণা বিরতি দেন পোইলিভরে। অন্যদিকে কার্নি সাসকাচোয়ান, আলবার্টা এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সমাবেশগুলোতে ভোট টানার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন, যেখানে রক্ষণশীলদের সমর্থন সবচেয়ে বেশি।

প্রচারণার পথে ট্রাম্পের বিশাল উপস্থিতি এবারের নির্বাচনটিকে কার্যকরভাবে গণভোটেও পরিণত করেছে যে, কানাডা কীভাবে তার ভবিষ্যতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, যখন একজন লড়াকু মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির অস্তিত্ব নিয়েই টান দিয়ে চলেছেন।

প্রচারণাকালেও ৬০ বছর বয়সী কার্নি মার্কিন নেতার কাছ থেকে পাওয়া ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘ট্রাম্প আমাদের ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে চলছেন, যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মালিক হতে পারে’। নিজেকে অস্থির সময়ে কানাডার প্রয়োজনীয় ‘স্থিতিশীল হাত’ হিসেবেও উপস্থাপন করেন তিনি। বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্রেক্সিটের সময় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন কার্নি।

রোববার প্রচারণা বিরতিতে সাসকাটুনে কানাডার প্রতি যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আরও ‘নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অংশীদারদের’ সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন কার্নি।
যেখানে প্রচারণার শুরুতেেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক ‘শেষ’।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ