Views Bangladesh Logo

গান কি সত্যিই মন ভালো করে? মন খারাপের সময় কোন ধরনের গান শুনবেন

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

মন খারাপ মানুষের জীবনেরই একটি অংশ। কখনও প্রিয়জনের দূরত্ব, কখনও ব্যর্থতা, কখনও আবার কোনো কারণ ছাড়াই মনের আকাশে জমে ওঠে বিষণ্নতার মেঘ। এমন সময়ে অনেকেই আশ্রয় নেন গানের কাছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—মন খারাপের সময় কেমন গান শোনা উচিত? দুঃখের গান, নাকি প্রাণবন্ত সুর?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর উত্তর সবার জন্য এক নয়। মানুষের আবেগ, ব্যক্তিত্ব এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী গানের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু ধরনের গান সাধারণভাবে মনকে শান্ত করতে, চাপ কমাতে এবং ধীরে ধীরে ইতিবাচক অনুভূতির দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

গান মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কোনো সুর বা কথা মুহূর্তেই অতীতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে, আবার নতুন আশারও জন্ম দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গান শোনার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের এক ধরনের ‘ফিল-গুড’ রাসায়নিক নিঃসৃত হয়। এটি আনন্দ, প্রশান্তি ও মানসিক স্বস্তি এনে দিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে গান হৃদস্পন্দন ও মানসিক চাপও কমাতে পারে।

১. শান্ত ও ধীরগতির গান

মন অস্থির থাকলে প্রথমেই উপকার দিতে পারে শান্ত সুরের গান। ধীর লয়ের মেলোডি, কোমল কণ্ঠ এবং মৃদু বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার মনকে ধীরে ধীরে স্থির হতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে—অ্যাকুস্টিক গান, সফট পপ, মৃদু রবীন্দ্রসংগীত, নাজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির গান এবং আধুনিক মেলোডি।

এসব গান উদ্বেগ কমিয়ে মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

২. প্রকৃতি ও ধ্যানমূলক সুর

শুধু গান নয়, অনেক সময় প্রকৃতির শব্দও মানসিক প্রশান্তি দেয়।

যেমন—বৃষ্টির শব্দ, সমুদ্রের ঢেউ, পাখির ডাক, বাঁশির সুর এবং পিয়ানো বা ইনস্ট্রুমেন্টাল সংগীত।

ধ্যান বা মেডিটেশনের সময় ব্যবহৃত সুরগুলোও মস্তিষ্ককে শিথিল করতে সাহায্য করে।

৩. নিজের অনুভূতির সঙ্গে মেলে এমন গান

অদ্ভুত হলেও সত্যি, অনেক মানুষ মন খারাপের সময় দুঃখের গান শুনে স্বস্তি পান।

কারণ এসব গান তাদের মনে করিয়ে দেয়—‘আমি একা নই, অন্যরাও এমন অনুভব করেছে।’

মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় Emotional Validation। অর্থাৎ নিজের অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, দীর্ঘ সময় ধরে শুধু বিচ্ছেদ, হতাশা বা আত্মবিধ্বংসী ভাবনার গান শুনতে থাকলে বিষণ্নতা আরও গভীর হতে পারে।

৪. স্মৃতিময় গান

শৈশব, পরিবার, বন্ধু বা সুন্দর সময়ের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা গান অনেকের মন ভালো করে দেয়।

কোনো পুরোনো প্রিয় গান শুনে হঠাৎ মনে হতে পারে—‘জীবনে খারাপ সময় যেমন আছে, তেমনি সুন্দর মুহূর্তও আছে।’

এই ইতিবাচক স্মৃতি মস্তিষ্কে আশাবাদী অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

৫. অনুপ্রেরণামূলক গান

যখন মন খারাপের কারণ ব্যর্থতা, হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, তখন অনুপ্রেরণামূলক গান কার্যকর হতে পারে।

এসব গানের বৈশিষ্ট্য—আশা জাগানো কথা, সংগ্রামের গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুর।

এ ধরনের গান মানুষকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার শক্তি দিতে পারে।

৬. প্রাণবন্ত ও উদ্দীপনামূলক গান

অনেক সময় মন খারাপের সবচেয়ে ভালো প্রতিষেধক হলো ছন্দময় ও প্রাণবন্ত গান।

গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুত তালের ইতিবাচক গান শরীরে শক্তি ও উদ্দীপনা বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে—পপ, ফোক ফিউশন, ড্যান্স মিউজিক ও প্রাণবন্ত ব্যান্ডসংগীত।

এসব গান শুনলে অনেকেরই মুড দ্রুত পরিবর্তিত হয়।

কখন দুঃখের গান এড়িয়ে চলবেন?

যদি—বারবার একই কষ্টের স্মৃতি মনে পড়ে, কান্না থামাতে না পারেন, নিজেকে আরও অসহায় মনে হয় এবং একাকিত্ব বেড়ে যায়।

তাহলে কিছু সময়ের জন্য দুঃখের গান থেকে দূরে থাকা ভালো।

সেই জায়গায় শান্ত, আশাবাদী বা নিরপেক্ষ সুরের গান বেছে নেওয়া যেতে পারে।

শুধু গান নয়, গানের সঙ্গে কী করবেন?

মন ভালো করার জন্য শুধু গান শুনলেই হবে না। এর সঙ্গে কিছু কাজ করলে উপকার আরও বাড়তে পারে—

-হাঁটতে হাঁটতে গান শোনা
-বই পড়ার সময় মৃদু সুর চালানো
-বন্ধুর সঙ্গে প্রিয় গান ভাগাভাগি করা
-গান গাওয়া
-কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ