চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজের অধ্যাপক জেসন আর্ডে
গবেষণাকর্মে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠার পর যুক্তরাজ্যভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আর্ডে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পর দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, এই অধ্যায় শেষ করার একমাত্র উপায় ছিল পদত্যাগ।
সম্প্রতি অধ্যাপক আর্ডের একাডেমিক সনদ এবং সম্মানসূচক নিয়োগ নিয়ে নতুন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এলে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেন আরডে।
এই বিতর্কের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় কেমব্রিজের সাবেক শিক্ষক নাথান কফনাসের করা কিছু অভিযোগের পর। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হওয়া কফনাস দাবি করেন যে, আর্ডের প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণাকর্মে চৌর্যবৃত্তির একাধিক ঘটনা রয়েছে। এর পাশাপাশি তার শিক্ষাগত অর্জনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেসন আর্ডে বলেন, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্রমাগত জনসমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়ে তিনি চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন।
নিজের গবেষণাকাজে কিছু ভুলের কথা স্বীকার করলেও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন এই অধ্যাপক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি মিথ্যাবাদী নই।”
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনি সংস্থা 'গুড ল প্রজেক্ট'-এর মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আর্ডে স্পষ্ট করেন যে, তাঁর এই পদত্যাগকে কেমব্রিজে অর্জিত গবেষণা বা আদর্শের ওপর থেকে আস্থা হারানোর প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘তার পদত্যাগকে তাকে ঘিরে তৈরি করা মনগড়া বয়ানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত নয়।’
অত্যন্ত কঠিন সময়ে তার পাশে থাকার জন্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে আর্ডে বলেন, ‘আমার কাজ এখানেই শেষ নয়। কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে আসবেন।’
মতামত দিন