নারীর অধিকার সুরক্ষায় নিবন্ধন আইন সংস্কারের দাবি
নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)।
সংস্থাটি বলছে, শক্তিশালী নিবন্ধন ব্যবস্থা ছাড়া নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন।
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামীকাল ৮ মার্চ পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা জানায়, কন্যাশিশুর জন্ম নিবন্ধন তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রথম ধাপ। জন্ম নিবন্ধন না থাকলে বয়স প্রমাণ করা যায় না, যা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্বের ঝুঁকি বাড়ে, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সহিংসতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
সংস্থাটি আরও জানায়, নিবন্ধন না থাকলে নারী পাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ে। একইভাবে মৃত্যু নিবন্ধন না থাকলে কোনো নারীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে পারিবারিক বিরোধের ঝুঁকিও বাড়ে।
প্রজ্ঞার তথ্যমতে, ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিবন্ধন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকলেও এখনও দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। আইনগত সীমাবদ্ধতাও শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংশোধন করে পরিবারনির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দিলে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে জন্মের সময়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, নারীর অধিকার শুরু হয় তার আইনগত পরিচয় থেকে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন অর্জন সম্ভব হবে। পাশাপাশি এটি নারীর অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথও সুগম করবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে