এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: টাকার লোভে ইসমাইলকে হত্যা, বলছে পুলিশ
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখ ও হাত টেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ইসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাসের চালক ও দুই সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইসমাইলের কাছে থাকা টাকা লুট করার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করেন তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের চালক সোহেল রানা, সুপারভাইজার সাজু ওরফে মিলন এবং সহকারী মনির হোসেন। শনিবার রাতে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বাসটি জব্দ করার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মুখ ও দুই হাতে টেপ প্যাঁচানো ছিল। পরনে ছিল নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি। পরে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার থেকে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম ইসমাইল হোসেন (৫০)। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন তার ছেলে হাসান।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করে পাওয়া ৫ লাখ টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন ইসমাইল। তার সঙ্গে থাকা টাকা ও দুটি মোবাইল ফোনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুর থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন ইসমাইল। পথে বাসের সুপারভাইজার সাজু তার কাছ থেকে ভাড়া চাইলে লুঙ্গিতে গুঁজে রাখা টাকা বের করে দেন তিনি। তখন তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে বিষয়টি সাজুর নজরে আসে।
পরে সাজু বাসের চালককে বিষয়টি জানান। পুলিশের দাবি, ইসমাইলকে কোনো ব্যবসায়ী মনে করে তার কাছে আরও টাকা থাকতে পারে—এমন ধারণা থেকে তাকে লুটের পরিকল্পনা করেন চালক ও তার সহযোগীরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজীপুরের চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হলেও ইসমাইলকে বাস থেকে নামানো হয়নি। এরপর তাকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে চলে আসে। একপর্যায়ে সুপারভাইজার ও সহকারী মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, বাসটি এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বনানীর দিকে যায়। পরে আবার এয়ারপোর্টের দিকে ফেরার পথে পিলার নম্বর ১৭৯ ও ১৮০-এর মাঝামাঝি এলাকায় ইসমাইলের মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহজনক একটি বাস শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য উৎসের সহায়তায় বাসটি জব্দ এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য, মামলায় ইসমাইলের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ করা হলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দাবি করেছে, তারা আড়াই লাখ টাকা নিয়েছে। ওই টাকা খরচ করে ফেলেছে বলেও তারা জানিয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাকার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার পরও বাসটি শনাক্ত করতে সময় লাগা এবং সড়কটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ফারুক হোসেন বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সিসিটিভি ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে পুলিশ সবসময় বলে আসছে।
সিসিটিভি ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত শর্ত মেনে চলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
মতামত দিন