Views Bangladesh Logo

অর্থ লোপাট হলে বড় বাজেটে লাভ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

জাতীয় বাজেটের আকার বৃদ্ধির চেয়ে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘খুব বড় বাজেটের মাধ্যমে যদি আবার কোনো কারণে ৩০ শতাংশ বা ২০ শতাংশ লোপাট হয়ে যায়, তাহলে যত বড় বাজেটই করা হোক না কেন, তার কোনো লাভ নেই।’

বাজেট যে যে কাজে ব্যবহার করা হবে, সততার সঙ্গে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু যেন স্ব-স্ব বিভাগ ব্যবহার করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসেও বাজেট সংকট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আনুষঙ্গিক যে সমস্ত খরচ, এমনকি মামলা পরিচালনার খরচও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের আইন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পকেট থেকে করতে হয়। কিন্তু আমরা এত সত্ত্বেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজ করে থাকি।’

জুন ক্লোজিংয়ের নামে অর্থবছর শেষে তড়িঘড়ি করে টাকা খরচের সংস্কৃতির বিপরীতে নিজের অফিসের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘আমার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, স্যার, এই টাকাগুলো ৩০ জুনের মধ্যে খরচ না করলে ল্যাপস হয়ে যাবে। তো যাবে, অসুবিধা কী? বাজেট ল্যাপস হয়ে যাবে বলে কী আমি নয়-ছয় করে আসবাবপত্র কিনব? আমার অফিসে ১৯ লাখ টাকার আসবাবপত্র কেনার মতো কোনো প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে নেই, তাই ওই টাকা ফেরত দিচ্ছি।’

সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সশরীরে গিয়ে আসবাবপত্র কেনার একটি উদাহরণও দেন তিনি। রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমি যে চেয়ারটিতে বসি, সেটি কিনতে নিজে হাতিলে গিয়ে বার্গেনিং করে প্রকাশিত মূল্য কমিয়েছি। পরে অফিসকে বলেছি সেভাবেই কিনে আনতে।’

অর্থের যথাযথ ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের এই টাকাটা তো আকাশ থেকে আসেনি। জনগণের কষ্টের টাকা, ঘামের টাকা। এর প্রত্যেকটা টাকার যথাযথ ব্যবহার হবে, প্রয়োগ হবে — দেশের জন্য, মানুষের জন্য, কল্যাণের জন্য।’

রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের মিতব্যয়িতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই ৮০-৯০ টাকা দিয়ে দুপুরে লাঞ্চ করেন। আমরা যদি যথাযথভাবে সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে পারি, অর্থের অপচয় রোধ করতে পারি, তাহলে বাজেটের আকারের চেয়ে এর যথাযথ ব্যবহারের ওপরই সবকিছু নির্ভর করবে।’

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ