দাম বৃদ্ধিকারীদের আইনের আওতায় আনুন
বাংলাদেশের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই। দিন দিন নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য সবই প্রায় লাগামছাড়া। জনগণের নাভিশ্বাস ওঠার দশা। ডিম, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, কাঁচামচির কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই। এর জন্য কেউ দায়ী করছেন আমদানি কমে যাওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া বা সিন্ডিকেটের চক্রকে।
আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মাত্রাহীন দাম বাড়ার কারণ মূলত চার গোষ্ঠীর চক্র।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাজারে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে আড়তদারদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলেছে, আড়তদারদের যোগসাজশে পাইকারি, ব্যাপারী ও খুচরা ব্যবসায়ী- সবাই একত্র হয়ে দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন এ সংস্থাটি নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আমরা জানি, সম্প্রতি বাজার তদারকি করার জন্য সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তবে তাতে কোনো ফল হয়েছে বলে জানা যায়নি। জানা গেছে, তদারকি দল বাজার ত্যাগ করা মাত্রই আগের পরিস্থিতি বিরাজ করে। প্রশ্ন হচ্ছে, ক্রেতারা কেন তাহলে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে পণ্য ক্রয় করেন? উত্তর সহজ, এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনলে জীবন চলবে না। কিন্তু বিষয় হচ্ছে, একই পণ্য বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন দাম।
সম্প্রতি কাঁচামরিচ নিয়ে ঢাকা শহরে এক চরম নৈরাজ্য বিরাজ করেছে। কোনো বাজারে কাঁচামরিচ উঠেছে ৫০০ টাকা কেজি, আবার কোনো বাজারে তা আড়াইশ-তিনশ টাকাতেই পাওয়া গেছে। তার মানে বিক্রেতারা যে যেভাবে সুযোগ পেয়েছে, সে সেভাবেই ক্রেতার ওপর জুলুম চালিয়েছে। ক্রেতারাও চারদিকে আর খোঁজ নেয়নি। আমাদের ক্রেতাদের একটি অদ্ভুত মনস্তত্ত্বও লক্ষ্য করা যায়, কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের দাম বাড়লে সেটার বিক্রি আরও বেশি হতে থাকে। ক্রেতারা ভাবে যে, পরে যদি আরও বেশি দাম বাড়ে তাই এখনই বেশি করে কিনে রাখি। এ সুযোগে বিক্রেতারা মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।
অথচ, দু-চার দিনের জন্য যদি ক্রেতারা কষ্ট করে ওই পণ্য ক্রয় থেকে একটু বিরত থাকতেন, তাহলেই কিন্তু বিক্রেতারা ওই পণ্যের দাম কমাতে বাধ্য হতেন। আরেকটা ব্যাপার, সেনাবাহিনী মাঠে নামিয়েও কেন এই সিন্ডেকেট ভাঙা যাচ্ছে না? এই সিন্ডেকেট কি এতই শক্তিশালী! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ক্রেতা প্রশ্ন তুলেছেন, সারা দেশের সিন্ডিকেট ভাঙা লাগবে না, পারলে কারওয়ান বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে দেখান।
ভোক্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারওয়ান বাজারে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন অবৈধ ফড়িয়া ব্যবসায়ী আছেন। তাদের কোনো ধরনের ব্যবসার নিবন্ধন, রসিদ বই বা অন্য কোনো অনুমোদন নেই। অভিযানে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, সবজির দাম বৃদ্ধিতে আড়তদারদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আড়তদারদের যোগসাজশে পাইকারি, ব্যাপারী খুচরা ব্যবসায়ী- সবাই একসঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করছে। অবৈধভাবে ব্যবসা করা ও দাম বৃদ্ধির কারসাজির অভিযোগে এর মধ্যে ৫ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর।
আমরা চাই এমন জরিমানা আরও বৃদ্ধি করা হোক। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। এই চক্র ভাঙতে না পারলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে না। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে না পারলে বর্তমান সরকারও বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে