Views Bangladesh Logo

ভারতের সভাপতিত্বে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের যাত্রা শুরু

ভারতের সভাপতিত্বে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। বিশ্ব বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে যোগ দিয়েছেন সম্প্রসারিত ১১ সদস্যের জোটের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে শুরু হওয়া উদ্বোধনী পর্বে প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় একটি রুদ্ধদ্বার অধিবেশন, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ও বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালীকরণ।” এরপর ছিল একটি প্রদর্শনী, নেতাদের যৌথ ছবি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। সন্ধ্যায় অতিথিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছেন মোদি।

সম্মেলনের আগে দিল্লি পৌঁছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সার এবং জনগণে-জনগণে যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভারতীয় নাবিকদের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়েও মতবিনিময় করেন। শনিবারের পরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

সম্মেলনে উপস্থিত অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো। এ ছাড়াও এতে অংশ নিচ্ছেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েইরা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শীর্ষ নেতাদের এই সম্মেলনের পাশাপাশি ব্রিকস বিজনেস ফোরামে চলছে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, সীমান্ত-পারাপার লেনদেন ব্যবস্থা, বিনিয়োগ প্রবাহ ও সরবরাহ শৃঙ্খল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়া সংকট নিয়ে জোটের অবস্থানও এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই দিনের এই আয়োজন ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভারত মণ্ডপম, বিদেশি প্রতিনিধিদলের হোটেল এবং অতিথিদের গাড়িবহর চলাচলের রাস্তায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য "সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসইতার জন্য নির্মাণ" — যা মোদির "মানবতা আগে" দর্শনের প্রতিফলন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ব্রিকস কতটা ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ তুলে ধরতে পারে, তার একটি পরীক্ষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই সম্মেলনকে। রোববার শেষ হবে দুই দিনের এই আয়োজন।

দুই দশক আগে উদীয়মান অর্থনীতির অন্যতম মঞ্চ হিসেবে যাত্রা শুরু করা ব্রিকস আজ আর সেই ব্রাজিল-রাশিয়া-ভারত-চীন জোটের চেহারায় নেই। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হওয়ার পর মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব ধাপে ধাপে জোটে যুক্ত হয়ে এর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পরিসর বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। এশিয়া, আফ্রিকা, উপসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ইউরেশিয়া জুড়ে বিস্তৃত ১১ সদস্যের এই জোট এখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ওজনে অনেক ভারী, তবে সদস্য সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঐকমত্য গড়ে তোলাও হয়ে উঠেছে জটিলতর। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ভারত তার সভাপতিত্বের মূলমন্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে "মানবতা আগে" ধারণাটি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ