বৈশ্বিক জিডিপিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশের বেশি, জি৭-এর ২৯ শতাংশ: পুতিন
বিশ্ব অর্থনীতিতে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন জোট ‘জি-সেভেন’ (জি৭)–এর চেয়ে উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসের প্রভাব ও ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, বৈশ্বিক মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে (জিডিপি) ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর যৌথ অবদান বর্তমানে ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যার বিপরীতে জি৭-এর অবদান নেমে এসেছে ২৯ শতাংশে।
ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন। বক্তৃতাকালে জি৭-কে ‘তথাকথিত জি৭’ আখ্যা দিয়ে পুতিন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।
পুতিন উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্রিকস জোটের অংশীদারিত্ব ক্রমাগত বাড়ছে এবং এই অবস্থানকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
চীন, ভারত, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত এই জোটটি সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকাজুড়ে ব্রিকসের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিধি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ এবং বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ব্রিকসের ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’-কে শক্তিশালী করতে রাশিয়া ও চীন সরব রয়েছে।
তবে চলতি সম্মেলনের আয়োজক দেশ ভারত জোটটিকে কোনো স্পষ্ট পশ্চিমা-বিরোধী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বানানোর চেয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।
তা সত্ত্বেও, পুতিনের এই বক্তব্য বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চলমান দ্বৈরথকে স্পষ্ট করে তুলেছে। ব্রিকসের বিস্তার এখন বিশ্বমঞ্চে ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
মতামত দিন