মেসির জন্মদিনের চিঠি লিখে বিশ্বকাপ দেখার আমন্ত্রণ পেল ৮ বছরের শিশু
আট বছর বয়সী এক খুদে ফুটবলার, নাম মানু লিতভি। লিওনেল মেসির অন্ধভক্ত এই শিশু আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্মদিনে (২৪ জুন) হৃদয়ছোঁয়া এক চিঠি লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছিল। কিন্তু গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি—তার জন্য অপেক্ষা করছিল আরও বড় বিস্ময়।
মানু খেলে আর্জেন্টিনার ক্লাব ‘আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স’-এর বয়সভিত্তিক দলে। মেসিকে চিঠি লেখার সুবাদে সে এবার বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘লা নাসিওন’ জানিয়েছে, মেসির স্পনসর ও বাণিজ্যিক অংশীদার আর্জেন্টিনার এক নামী ব্র্যান্ডের সৌজন্যে সত্যি হতে চলেছে মানুর স্বপ্ন।
লা নাসিওনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ইউটিউব ও টুইচে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় লাইভ স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘ওলগা’র ‘সেরিয়া ইনক্রেইবল’ শোতে। সেখানে মেসির উদ্দেশে লেখা বার্তাটি পড়ে শোনায় মানু, ‘প্রিয় লিও, তোমাকে একটি চিঠি লিখেছি; কারণ, আমি জানি আজ তোমার জন্মদিন। আশা করি, এটি তোমার কাছে পৌঁছাবে। দিনটি শেষ হওয়ার আগে তোমাকে জানাতে চেয়েছিলাম যে তুমি আমার কাছে কতখানি।’
চিঠিতে মেসির ফুটবলশৈলীর পাশাপাশি তার মানবিক গুণের কথাও তুলে ধরে ছোট্ট এই ফুটবলার। মাইক্রোফোন হাতে মানু বলে, ‘যখন আমি তোমাকে খেলতে দেখি, মনে হয় তুমি আর বল যেন এক হয়ে গেছ। এটা পুরোপুরি এক জাদুকরি ব্যাপার! তোমার খেলার চেয়েও তোমার ব্যক্তিত্বকে আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। তুমি সব সময় সতীর্থদের সাহায্য করো এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও কখনো হাল ছেড়ে দাও না।’
ভিডিওটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক সাড়া ফেললে মেসির বাণিজ্যিক অংশীদার প্রতিষ্ঠানটি মানুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি আসে অনুষ্ঠানে, যখন উপস্থাপক পলা চাভেস মানুকে পড়ে শোনান নতুন একটি চিঠি—এবার যার প্রাপক স্বয়ং ছেলেটি।
সেই চিঠিতে লেখা ছিল, ‘আজ থেকে তুমি আর একা একা স্বপ্ন দেখবে না। এই গল্পের পরের অধ্যায়টি লিখতে আমরা তোমাকে সাহায্য করতে চাই। আমাদের পুরো দলের পক্ষ থেকে আজই তোমাকে ও তোমার পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে তুমি তোমার জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা লুফে নিতে পারো।’
লা নাসিওন জানিয়েছে, বিশ্বকাপে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের গ্যালারিতে থাকার সুযোগ পাচ্ছে মানু। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
মূল চিঠিতে নিজের স্বপ্নের কথাও লিখেছিল মানু। অনুষ্ঠানে দর্শকদের সে জানায়, ‘আমিও আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে ফুটবল খেলি এবং আমার খুব বড় একটা স্বপ্ন আছে—আমি পেশাদার ফুটবলার হতে চাই। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে যখন চোখ বন্ধ করি, আমি এই প্রার্থনাই করি।’
মানুর চোখে মেসি হলেন সব বাধা পেরিয়ে জয়ী হওয়ার জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তার ভাষায়, ‘অনেক সময় আমি যখন আমার সেই স্বপ্নের কথা ভাবি, তখন তোমার ছবি আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কারণ, তুমিই প্রমাণ যে স্বপ্ন যত কঠিন হোক না কেন, তা সত্যি করা সম্ভব।’
এই সফরের মধ্য দিয়ে খুদে ভক্তটি একদিকে যেমন তার ফুটবলযাত্রা এগিয়ে নেওয়ার প্রেরণা পাবে, তেমনি স্টেডিয়ামে বসে নিজের সবচেয়ে বড় আদর্শকে সরাসরি দেখার স্বপ্নও পূরণ করবে। সহজ-সরল কথার জাদুতে লাখো ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জয় করা এই শিশুর নিষ্ঠা ও ভালোবাসাকে সম্মান জানাতেই নেওয়া হয়েছে এমন উদ্যোগ।
মতামত দিন