Views Bangladesh Logo

জন্ম ইংল্যান্ডে, হৃদয়ে নরওয়ে: আজ ইতিহাস গড়ার মঞ্চে হালান্ড

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে। ম্যাচটি শুধু দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াই নয়, এটি আর্লিং হালান্ডের জন্যও এক আবেগঘন উপলক্ষ। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে নরওয়ে, আর সেই ইতিহাসের অন্যতম নায়ক হওয়ার সুযোগ রয়েছে এই তারকা স্ট্রাইকারের সামনে।

চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন হালান্ড। গোলের পর গোল করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়। তবে আজকের ম্যাচটি তার জন্য আরও বিশেষ, কারণ প্রতিপক্ষ সেই ইংল্যান্ড, যেখানে তার জন্ম এবং শৈশবের একটি অংশ কেটেছে।

আর্লিং হালান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের শহর লিডসে। তার বাবা আলফ ইঙ্গে হালান্ড তখন ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন। পরবর্তীতে তিনি ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডেই ছিলেন। তবে গুরুতর চোটে ক্যারিয়ার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর আলফ ইঙ্গে পরিবার নিয়ে নরওয়েতে ফিরে যান। এরপর ব্রিনে শহরেই বেড়ে ওঠেন হালান্ড। স্থানীয় ক্লাব ব্রিনের হয়ে ফুটবলে হাতেখড়ি হয় তার, সেখান থেকেই শুরু হয় পেশাদার ফুটবলার হওয়ার যাত্রা।

জন্মসূত্রে হালান্ড চাইলে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তিনি নরওয়ের জার্সি গায়ে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখেছেন। বয়সভিত্তিক প্রতিটি পর্যায়ে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করার পর মাত্র ১৯ বছর বয়সে সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার।

২০২২ সালে গোল ডট কমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড বলেছিলেন, "আমি ইংল্যান্ডে সাড়ে তিন থেকে চার বছর কাটিয়েছি, কিন্তু জীবনের বড় সময় নরওয়েতেই থেকেছি। তাই নরওয়েকে বেছে নেওয়াটাই আমার জন্য স্বাভাবিক ছিল। বাবা যদি ইংল্যান্ডে আরও দীর্ঘদিন খেলতেন, তাহলে হয়তো গল্পটা ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু আমি একজন নরওয়েজিয়ান এবং এটা নিয়ে আমি গর্বিত।"

নরওয়ের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন হালান্ড। এসব ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৬২, যা তাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। তার নেতৃত্বেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আজ ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে ভাইকিংরা। সেই স্বপ্নপূরণে সবচেয়ে বড় ভরসা হালান্ডই।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করলেও ক্লাব ফুটবলে হালান্ডের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে ইংল্যান্ডেই। ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি জিতেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, একটি লিগ কাপ, একটি কমিউনিটি শিল্ড এবং একটি উয়েফা সুপার কাপ। এছাড়া তিনবার প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জিতেছেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা।

আজ তাই জন্মভূমির বিপক্ষে মাঠে নামলেও হালান্ডের লক্ষ্য একটাই, নিজের দেশ নরওয়েকে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়া।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ