Views Bangladesh Logo

বগুড়ায় ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু: ১০ মাসে আক্রান্ত ১১৬২, একজনের মৃত্যু

Masum   Hossain

মাসুম হোসেন

সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যে বগুড়াতেও বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতোমধ্যে এ জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। অথচ এডিস মশার প্রজননের জায়গা ধ্বংস, লার্ভা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম বগুড়াতে তেমন নেই।

গত ৮ অক্টোবরের জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন মোট ১ হাজার ১৬২ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৯ জন। বর্তমানে বগুড়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৩ জন। ডেঙ্গুুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত ১ জনের।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শেরপুর ও ধুনট উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। ধুনটে মোট ১৬৩ জন আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪৯ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৪ জন। আর শেরপুর উপজেলায় মোট আক্রান হন ১৩৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১১ জন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগে চেষ্টা করা হয়। তবে ইউএনওর ব্যবহৃত সরকারি মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইল ধুনটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, আমরা নিয়মিত পরিস্কার অভিযান চালাচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে একদিন করে ইউনিয়ন ভিত্তিক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আর ধুনট উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, তবে তাদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় এসেছেন।

বগুড়া মহানগরের লতিফপুর, কলোনি, ফুলতলা, বনানীসহ অন্তত দশটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ ও আবর্জনায় জমে থাকা পানি রয়েছে। ডাবের খোসার ভেতরেও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। শুধু স্থানীয় সড়কগুলোতেই নয়, মহানগরের শেরপুর সড়কের দুই পাশেও রয়েছে এমন চিত্র। লতিফপুর এলাকায় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য ও পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আশপাশে পড়ে রয়েছে ডাবের খোসা।

সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড়, নর্দমা ও ড্রেনের আশপাশে জমে আছে আবর্জনা। মাসের পর মাস এমন অবস্থা চললেও সেগুলো পরিষ্কারে বগুড়া মহানগর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ দেখা যায়নি। বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশেও ফেলে রাখা হয়েছে ময়লার স্তূপ। সেখানে জমে আছে পানি। এখানেই শেষ নয়, আবর্জনার পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিনেও পানি জমে রয়েছে। এসব স্থানই এডিস মশার প্রজনন হয়। ডেঙ্গু রোগ এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে।

মমিন হক, আব্দুল আলিমসহ বগুড়া মহানগরের অন্তত ১৫ জন অটোচালক জানান, মাঝেমধ্যে সাতমাথা, জলেশ্বরীতলা ও আশপাশের এলাকায় ফগিং মেশিন দিয়ে মশা নিধন করতে দেখা যায়। তবে এসব এলাকার বাহিরে মশা নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ে না।

তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট (মশা নিধন কার্যক্রম চালানো এলাকা) এলাকাগুলোতে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়, সিভিল সার্জনের দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাসভবন রয়েছে। এ কারণে সেখানেই মশক নিধনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া মহানগরের বনানী, লতিফপুর, ফুলতলা, গণ্ডগ্রাম, তিনমাথা ও ফুলদিঘী এলাকায় অন্তত ৫০ জনের সঙ্গে কথা হয়।

তাদের অভিযোগ, বগুড়া সিটি করপোরেশন হওয়ার পর থেকে এসব এলাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তেমন উদ্যোগ নেই।

বনানী এলাকার চা বিক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, বনানীতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে মাঝেমধ্যে মশা নিধন কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়। কিন্তু তাদের এলাকায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর ইসলাম স্বাধীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি মিটিংয়ে রয়েছেন পরে কথা বলবেন।

পরবর্তীতে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম. আর ইসলাম স্বাধীনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ