এক্সপ্রেসওয়েতে মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো মরদেহ, গাড়িচালক গ্রেপ্তার
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সোহেল রানা (৪০) নামে একটি গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১ শনিবার রাতে এক ক্ষুদে বার্তায় সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।
ইসমাইল হোসেন গাজীপুরের বাসিন্দা। মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। তখন তার মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল। পরনে ছিল অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।
পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। ইসমাইল জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
স্বজনরা জানান, ইসমাইলের একমাত্র মেয়ে শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। মেয়ের বিয়ের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন এবং কিছু টাকা দিয়ে গ্রামে একটি ঘর নির্মাণ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকা নগদ ও কিছু বাজার নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। তার সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর এসব কিছুই পাওয়া যায়নি।
ইসমাইলের ছেলে হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরের উদ্দেশে জামালপুর থেকে রওনা হন তার বাবা। রাত ১১টার দিকে ফোন করে সকালে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন। ছোট বোনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতেই তিনি বাড়ি ফিরছিলেন।
হাসান বলেন, শুক্রবার সকালে গাজীপুরের জিরানীতে বাবার নামার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে তাকে ফোন করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা পুলিশ বিষয়টি জামালপুর থানা পুলিশকে জানায়। সেখান থেকে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি।
বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে ইসমাইলের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। স্বজনদের বরাত দিয়ে
তিনি জানান, ইসমাইল ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। অসুস্থতার কারণে নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। গাজীপুরের কাশিমপুরে স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে থাকতেন তিনি। প্রায় চার মাস আগে জামালপুরের গ্রামের বাড়িতে যান।
এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ইসমাইলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গাড়িতে করে মরদেহ এনে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইসমাইলের মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়া গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। এতে ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
মতামত দিন