Views Bangladesh Logo

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: বাসের সুপারভাইজার-সহকারীর ‘স্বীকারোক্তি’, চালক রিমান্ডে

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বাসযাত্রী ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কর ও সহকারী মাহবুব আলম মনির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় বাসচালক সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম তালুকদার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করেন। সাজু ও মনির স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তিনি। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর সাজুর এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দীক আজাদ মনিরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে সোহেল রানাকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসব তথ্য জানান প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন।

গত শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মুখে টেপ লাগানো ছিল। পরনে ছিল অটোরিকশাচালকদের পোশাকের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি। পরে আঙুলের ছাপের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের তথ্য মিলিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ওই ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন। তার বয়স ৫০ বছর এবং তিনি জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ শনাক্ত করেন তার ছেলে হাসান।

পুলিশের ভাষ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাওয়ার জন্য ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসে উঠেছিলেন ইসমাইল। পথে ভাড়া দেওয়ার সময় তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা রয়েছে বিষয়টি বাসের সুপারভাইজার সাজুর নজরে আসে। পরে তিনি বিষয়টি চালককে জানান।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ইসমাইল লুঙ্গিতে গুঁজে রাখা টাকা বের করে ভাড়া দেওয়ার সময় তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা থাকার বিষয়টি দেখতে পান সাজু। পরে চালক ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে নামানো হয়নি। অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে বাসটি তাকে নিয়ে ঢাকার দিকে আসতে থাকে। একপর্যায়ে সুপারভাইজার ও সহকারী ইসমাইলের মুখ ও হাত টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পরে মরদেহটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। শনিবার রাতে বাসটি শনাক্তের পর জব্দ করে পুলিশ। এরপর চালক সোহেল রানা, সুপারভাইজার সাজু ও সহকারী মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইসমাইল গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রি করে পাওয়া পাঁচ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তার আসার খবর পেয়ে ছেলে হাসান গাজীপুরের জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন। বাবার মোবাইল নম্বরে ফোন করে সেটি বন্ধ পান তিনি। সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বাবার দেখা না পেয়ে বাসায় ফিরে যান।

পরে দুপুর ১২টার দিকে বনানী থানা থেকে তার প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে ইসমাইলের মরদেহ পাওয়ার কথা জানানো হয়। মরদেহের ছবি দেখে বাবাকে শনাক্ত করেন হাসান। তিনি জানতে পারেন, বনানী থানার আওতাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী অংশে ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে তার বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ইসমাইলের সঙ্গে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে আনা মালামাল পাওয়া যায়নি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। নাক, মাথা ও ডান হাতের কবজিতে টেপ লাগানো ছিল।

এ ঘটনায় ওই দিনই বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন ইসমাইলের ছেলে হাসান।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ