আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের বিচারের দাবিতে সোচ্চার বিএনপি-ছাত্রদল
পতনের ৬ মাসের মাথায় এসে ‘জুলাই হত্যায়’ আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে উচ্চকিত বিএনপি। গত দুদিনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে সম্পাদক পর্যায় পর্যন্ত অন্তত চারজন নেতা নানা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিচারের দাবিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব অপকর্মের যথাযথ বিচার এবং সন্ত্রাসী ও তাদের প্রশাসনিক সহযোগীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রদল।
যুবদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, জানুয়ারির মাঝামাঝিতেই এই দাবি সামনে আনেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরও ‘জুলাই-আগস্ট হত্যার’ বিচারে সরকারের ঢিলেঢালা উদ্যোগ দেখে বিএনপি জনমনে শক্তি জোগাতে জোরেসোরে মাঠে নেমেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ফোরামের ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের বিচার আশু প্রয়োজন দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এদেশকে অস্থিতিশীল ও ধ্বংস করতে যেটুকু বাকি রে্খেছেন, সেটি সম্পূর্ণ করতেই নতুনভাবে ‘ফ্যাঁসিস্ট’ দলটিকে নিয়ে মাঠে নামতে চান শেখ হাসিনা। সেজন্য ভারতে বসেই ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন তিনি’।
দুপুরে লক্ষ্মীপুরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অন্তর্বর্তী সরকারকে আওয়ামী লীগের বিচার দ্রুত শুরু করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘৫ অগাস্টের পর অনেকেই বলছেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেবেন। ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নেই। অনেকেই বলেন, নিষিদ্ধ করেন না কেন? পথে-ঘাটে কী একটা দল নিষিদ্ধ করা যায়? তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, যদি বিচার হয়, তাহলেই শেখ হাসিনা নিষিদ্ধ হয়ে যাবেন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে’।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনের আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ দায়ে সরকার ও রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়ায়ই নির্ধারিত হোক, আওয়ামী লীগ এদেশে রাজনীতি ও নির্বাচন করতে পারবে কি না’।
সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলে তিনি বলেন, ‘কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার। আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছিল জনগণ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিলেও পরে উপদেষ্টা পরিষদে বাতিল করা হয়’।
‘একদিকে বলবেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক, আবার বিচারও করবেন না, রাজপথে পুলিশ দিয়ে বাধা দেবেন, এতো স্ববিরোধিতা ঠিক নয়’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
বৃহস্পতিবার ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে মিছিল নিয়ে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দেয় ছাত্রদল।
পরে সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘ছাত্রলীগের ১৬ বছরের অত্যাচারের বিচারের কোনো পদক্ষেপ এখনো নেয়া হয়নি। আমরা অনেকবার এই বিচার চেয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা আমাদেরকে ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে। আশা করি, শিগগিরিই প্রশাসন অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনবে। অন্যথায় আরও বড় কর্মসূচি দেব’।
ঢাকা কলেজের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘সরকার এখনও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়নি’। দেশজুড়ে পালিয়ে থাকা সংগঠনটির কোনো শীর্ষনেতা ও অন্য নেতাকর্মী এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান তিনি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে