বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চকরিয়া-পেকুয়া আসনের (কক্সবাজার-১) বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘গণমাধ্যমের ভূমিকা অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। কারণ, গণমাধ্যমের ওপর একটি বড় সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। মিস ইনফরমেশন বা ডিজইনফরমেশনের মাধ্যমে যেন সমাজে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বুধবার সকালে চকরিয়া উপজেলার জিদ্দাবাজার এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও অভিযোগ তদন্তের জন্য দেশে আলাদা প্রেস ইনস্টিটিউট ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা রয়েছে। তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা হলো, সাংবাদিকের নিজের বিবেকের বিষয়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করাই সাংবাদিক সমাজের মূল কর্তব্য।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিতে দেশের গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং তা দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ রয়েছে। গণমাধ্যমের জন্য আলাদা একটি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বিএনপির এই নেতা জানান, একটি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছিল, যা ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সেখানে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। গণতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। শহীদদের স্বপ্নের একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল যুগের কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্য মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। তাই গণমাধ্যমকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের সম্মান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুন্নত থাকে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও সুদৃঢ় হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং গণমাধ্যমের বিকাশ শুরু হয়। তবে গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে গণমাধ্যমের একটি অংশ দলীয়করণে জড়িয়ে পড়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
শেষে বিএনপির এই নেতা বলেন, গণমাধ্যমের লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করা। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মালিকের চাকরি নয়, বিবেকের চাকরি করুন। সাংবাদিকেরা যদি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, তাহলে দেশের গণমাধ্যম সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন থাকবে।’
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম, ওমর আলী, এস এম হানিফ, আবদুল্লাহ আনসারী, এফ এম সুমন, কে এম নাছির উদ্দিন, শাহ মোহাম্মদ জাহেদ, অলি উল্লাহ রনি প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে