Views Bangladesh Logo

বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আদাবরে বিএনপি নেতা খুন

রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে কয়েক দিন আগে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে সালিস বৈঠকের পর সংঘর্ষে স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

বুধবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড় ও কাঁচাবাজারসংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, আহত অবস্থায় আবুল বাশার ও সাদ্দামকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২টার দিকে আবুল বাশার মারা যান। সাদ্দাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত আবুল বাশারের বড় ভাই সবুজ মিয়া জানান, পূর্ববিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এলাকায় চলমান একটি বিরোধ মীমাংসার জন্য আবুল বাশার সালিস বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আবুল বাশার ও সাদ্দাম গুরুতর আহত হন।

পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল ও জাপানের ম্যাচ দেখা নিয়ে বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিব ও এক কিশোরের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক দফায় উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত করতে বুধবার রাতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে বৈঠকের শেষ পর্যায়ে আবারও উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আবুল বাশার ও সাদ্দাম গুরুতর আহত হন।

মোহাম্মদপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, নিহত আবুল বাশার আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাশারের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

স্বজনরা জানান, আবুল বাশার পেশায় একজন প্রাইভেটকারচালক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। গফুর মিয়ার ছেলে আবুল বাশার আদাবরের বি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ