Views Bangladesh Logo

প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনে এগিয়ে বিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সম্ভাবনার পথে বিজেপি। এই বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপির এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ১৯৪। অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল পেয়েছে আসনসংখ্যা ৯৬।

২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের প্রয়োজন ১৪৮ আসনে জয়। সে হিসাবে বিজেপিই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে। কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোট গণনা শুরু হয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, এই রাজ্যে তার দল বিজেপিই সরকার গঠন করবে।

প্রথমে গণনা করা হচ্ছে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। এরপর গণনা করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নেওয়া ভোট। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম মানেই তৃণমূলের ভোটব্যাংক। এবার এই ধারণায় চিড় ধরেছে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের বড় একটি অংশ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু ভোট ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান শক্তি। বিশেষ করে ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটি এই ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করেই ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থেকেছে। অন্যদিকে বিজেপি ঐতিহাসিকভাবে এই রাজ্যে দুর্বল অবস্থানে থাকলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব বাড়তে শুরু করে। এবারের নির্বাচনে সেই প্রভাব সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব-সব মিলিয়ে ভোটের এই ধারা পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু এলাকায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষও প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ৭৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৪ টি আসন। 

সূত্র: এনডিটিভি, এএনআই, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ