সাইবার ঝুঁকি না কাটলে চালু হবে না বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
সাইবার হামলার ঝুঁকির কারণে বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট তিন দিনেও চালু হয়নি। বৈশ্বিক ঝুঁকি না কাটা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে রোববার সকালে ওয়েবসাইট চালুর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
শনিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রস্তুতি আছে খুলে দেওয়ার, তবে ঝুঁকি এখনো (রাত সাড়ে ৮টা) আছে। বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ চালু করা হবে না ওয়েবসাইট। আইটি টিম সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে।’
বৈশ্বিক সাইবার হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে রোববার ব্যাংক খোলার দিন ওয়েবসাইটটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।
বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এ সতর্কতা জারি করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট বা প্যাচ ইনস্টল করা সম্ভব না হলে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।
এরপরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিকভাবে সাইবার হামলার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
পিএইচপি ডেভেলপমেন্ট টিম গত বুধবার ত্রুটি দুটি সংশোধনে জরুরি নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশের ঘোষণা দেয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট*-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রুটি দুটি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও আর্থিক খাতের অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করে থাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিজিডি ই-গভ সার্ট (সিআইআরটি)। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানায়, পিএইচপি সিস্টেমে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোকে ‘পিএইচপি২শেল’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অননুমোদিত ব্যক্তিরা পিএইচপি প্রযুক্তিতে পরিচালিত ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে প্রবেশ করতে পারে।
মতামত দিন