জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন জমির উদ্দিন সরকার
সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জানাজা শেষে সংসদ ভবনের নির্ধারিত চত্বরে তাকে সমাহিত করা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, যেখানে ইতোমধ্যে সাতজন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও জাতীয় ব্যক্তিত্বকে দাফন করা হয়েছে, সেখানেই জমির উদ্দিন সরকারকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রোববার ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচবারের এই সংসদ সদস্য। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জমির উদ্দিন সরকার। আইনজীবী হিসেবে তিনি সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ, জাগদল হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন জমির উদ্দিন সরকার এবং ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি প্রায় আড়াই মাস বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব পালনকালেই সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান যুক্ত হয়।
মতামত দিন