এটিবি জবস মেলার মাধ্যমে বিশ্ব চাকরির বাজারে উন্মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে বৈশ্বিক চাকরি মেলা। আগামী ২২ আগস্ট রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে দিনব্যাপী এই মেলা আয়োজন করছে অনলাইন জব সার্চিং প্ল্যাটফর্ম এটিবি জবস। এতে প্রায় ৪০টি জাপানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে, যারা চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেবে এবং নিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এটিবি জবসের চিফ অপারেটিং অফিসার রেই তাকাহাশি বলেন, ‘মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা শুধু চাকরির সুযোগই পাবে না, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখতে পারবে। জাপানি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হওয়ায় কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।’
মেলায় অংশগ্রহণকারী কোম্পানির মধ্যে থাকবে জাপান সরকারের ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানও, যারা সরাসরি জাপানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। এছাড়া, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সক্রিয় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও এতে যুক্ত হবে, যারা বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী খুঁজছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম শ্রম রপ্তানিকারক দেশ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। ২০২৪ সালে বিদেশে গেছেন ১১ লাখের বেশি কর্মী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট জিডিপির প্রায় ৬.৫ শতাংশ। বৈশ্বিক চাকরি মেলার মাধ্যমে দক্ষ তরুণরা সরাসরি জাপান ও অন্যান্য উন্নত দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে রেমিট্যান্স আয় আরও বেড়ে যাবে।
জাপানে বর্তমানে শ্রমিক সংকটের সমস্যাটি মারাত্মক। জাপান সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা প্রায় ৭৯ লাখ বিদেশি কর্মী চাইবে। বিশেষ করে হেলথকেয়ার, কেয়ারগিভিং, নির্মাণ, আইটি ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, দেশের তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১১ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম উচ্চ। প্রতিবছর ২০ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক চাকরি মেলা তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবুল হোসন, মো. সফিউদ্দিন, কাওয়াই-এর সিএফও, মোহাম্মদ হেমায়েত হোসেন ও রিসদা বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক। তাদের মতে, দেশের চাকরি বাজারকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে এই মেলা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। ইতিমধ্যেই দেশের তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে মেলাটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী রপ্তানির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে