Views Bangladesh Logo

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ইতিহাসের নানা বাঁকে বাঙালির জেগে ওঠা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

র্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ বুধবার। এ উপলক্ষে বরাবরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আজ সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে দলটি। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এমপি।

এছাড়া দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের জন্য দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ এবং সকল সহযোগী সংগঠন একই রকম কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিবৃতিতে বুধবার জাতির জনকের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি উদযাপনের জন্য আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে ২৯০ দিন বন্দি ছিলেন। এরপর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমানটি তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণের সময় সেই বৃষ্টিভেজা বিকেলে ঢাকার রাজপথে লাখো মানুষের ঢল নামে। সকলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। তারা জাতির জনককে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে এসময় চারদিক কম্পিত হতে থাকে। বঙ্গবন্ধু বিমান থেকে নেমে সোজা চলে যান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

আবেগপ্রবণ কিন্তু আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে তিনি বাঙালি জাতিকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। কণ্ঠের নীরবতার মাঝে বঙ্গবন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে পুরো জাতি সেই সময় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের বিজয় ও স্বাধীনতাকে পূর্ণ করতে জাতিকে নতুন অনুপ্রেরণা যোগায়। তিনি বলেন, “আজ প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ কে মেরে ফেলা হয়ে হয়েছে ২য় বিশ্ব যুদ্ধে ১ম বিশ্ব যুদ্ধেও এত মানুষ এত সাধারন জনগণকে মৃত্যু বরণ করে নাই শহীদ হয় নাই যা আমার ৭ কোটির বাংলায় করা হয়েছে। আমি জানতাম না আমি আপনাদের কাছে ফিরে আসবো আমি খালি একটা কথা বলেছিলাম, তোমরা যদি আমাকে মেরে ফেলে দাও কোন আপত্তি নাই মৃত্যুর পরে তোমরা আমার লাশটা আমার বাঙ্গালির কাছে দিয়ে দিও এই একটা অনুরোধ তোমাদের কাছে।"

"মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র।বাংলাদেশ স্বাধীন থাকবে বাংলাদেশকে কেউ দমাতে পারবে না। বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই। আমি যাবার আগে বলেছিলাম ও বাঙালি এবার তোমাদের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম আমি বলেছিলাম ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলে সংগ্রাম করছো আমি আমার সহকর্মীদের মোবারক বাদ জানাই। আমার বহু ভাই বহু কর্মী আমার বহু মা-বোন আজ দুনিয়ায় নাই তাদের আমি দেখবো না।

আমি আজ বাংলার মানুষ কে দেখলাম, বাংলার মাটি কে দেখলাম, বাংলার আকাশ কে দেখলাম বাংলার আবহাওয়া কে অনুভব করলাম। বাংলাকে আমি সালাম জানাই আমার সোনার বাংলা তোমায় আমি বড় ভালোবাসি বোধহয় তার জন্যই আমায় ডেকে নিয়ে এসেছে।"

দেশের ফিরে জাতির পিতা বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলায় আত্ম নিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি জাতি নতুন উদ্যমে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে যাত্রা শুরু করে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানী ও বিদ্যুতসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতির ভিত রচণা করেন বঙ্গবন্ধু সরকার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নৃশংস খুনীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে জাতির অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করে। দীর্ঘ ২১ বছর সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জনগণের রায়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আবারও বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখান, এগিয়ে নেন সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির পথে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনেও সফল হবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি সংস্কৃতি থাকবে; এ জাতির রক্ত কণিকায় বয়ে যাবে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' ধ্বনি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ