Views Bangladesh Logo

বেলজিয়ামের দাপুটে গোলঝড়ে তছনছ মার্কিন মুলুক

নিজেদের মাটিতে আয়োজিত ২০২৬ বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ হলো যুক্তরাষ্ট্রের। শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোনোর আগেই থামতে হলো স্বাগতিকদের। বেলজিয়ামের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো যুক্তরাষ্ট্রকে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের দখল, আক্রমণের ধার ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় স্বাগতিকদের ছাপিয়ে যায় রেড ডেভিলসরা। চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোল, হান্স ভানাকেনের একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট এবং অতিরিক্ত সময়ে রোমেলু লুকাকুর গোল মিলিয়ে দাপুটে এই জয় তুলে নেয় বেলজিয়াম।

ম্যাচের নবম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় বেলজিয়াম। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক আক্রমণের সূচনা করেন অধিনায়ক ইউরি তিলেমান্স। তার নিখুঁত পাসে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ভেঙে বল পৌঁছে যায় চার্লস ডি কেটেলারের কাছে, যিনি কাছ থেকে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে ৩১ মিনিটে সেট-পিস থেকে দারুণভাবে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। সতীর্থের ভাসিয়ে দেওয়া বলে বক্সের ভেতর নিখুঁত সময়ে লাফিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে জালে জড়ান মালিক টিলম্যান। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩ মিনিটে ফের গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন চার্লস ডি কেটেলারে এবং দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় এই ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৭ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান বদলি খেলোয়াড় হান্স ভানাকেন। বক্সে নিখুঁত সময়ে ঢুকে সতীর্থের ক্রস থেকে গোল করে ৩-১ করেন তিনি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে বেলজিয়াম। অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে ভানাকেনের দুর্দান্ত পাস থেকে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে ডান পায়ের শক্তিশালী শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ৪-১ করেন রোমেলু লুকাকু, যা নিশ্চিত করে বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে ফিনিশিং দক্ষতায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল বেলজিয়াম। এক্সপেক্টেড গোল (এক্সজি)-এর হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ০.৬৭-এর বিপরীতে বেলজিয়ামের ছিল ২.১৫, যা ব্যবধানের চেয়েও বড় বার্তা দেয়; প্রকৃত মানসম্মত সুযোগ তৈরিতে ঢের এগিয়ে ছিল রেড ডেভিলসরা। লক্ষ্যে থাকা শটের সংখ্যাতেও যুক্তরাষ্ট্রের ২টির বিপরীতে বেলজিয়ামের ছিল ৭টি। বড় সুযোগ তৈরিতেও (বিগ চান্স ক্রিয়েটেড) যুক্তরাষ্ট্র শূন্য থাকলেও বেলজিয়াম তৈরি করে ৪টি সুযোগ, যার মধ্যে ২টি নষ্টও হয়। যদিও পাসের নির্ভুলতা ও বলের দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

পুরো ম্যাচে ফাউলের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তারা ফাউল করেছে ১১টি, বেলজিয়াম করেছে ৯টি। হলুদ কার্ড দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই খেলোয়াড়; ৩৬ মিনিটে বেলজিয়ামের পাল্টা আক্রমণ থামাতে দেরিতে ট্যাকল করার জন্য ওয়েস্টন ম্যাককেনি এবং ৬৯ মিনিটে কৌশলী ফাউলের জন্য মালিক টিলম্যান। বেলজিয়ামের কোনো খেলোয়াড় কার্ড দেখেননি এই ম্যাচে। কোনো দলই লাল কার্ড দেখেনি এবং সারা ম্যাচে কোনো পেনাল্টিও দেওয়া হয়নি।

বিরতির পরপরই প্রথম পরিবর্তন আনেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ গ্রেগ বারহাল্টার। রক্ষণভাগের সের্হিনিয়ো দেস্তকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান সৃজনশীল মিডফিল্ডার জিও রেইনাকে, পিছিয়ে থাকা অবস্থায় আক্রমণে গতি বাড়াতে। অন্যদিকে বেলজিয়াম কোচ রুদি গার্সিয়া ২১ মিনিটেই প্রথম পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন আমাদু ওনানা, তার পরিবর্তে নামেন হান্স ভানাকেন, যিনি পরবর্তীতে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট নিয়ে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন।

ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন, যিনি বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর ফিফার সিদ্ধান্তে খেলার অনুমতি পান, তবে জরিমানা গুনতে হয় তাকে। বেলজিয়ামের আপত্তি সত্ত্বেও ফিফা আপিল কমিটি সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তবে মাঠের খেলায় এই আলোচনা প্রভাব ফেলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে।

এই হারের মধ্য দিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপের পর ফের রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায় নিতে হলো স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে। অন্যদিকে, কেভিন দে ব্রুইনে ও রোমেলু লুকাকুর মতো তারকাদের বেঞ্চে রেখেও এমন দাপুটে জয় বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্মের’ গভীরতারই প্রমাণ। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে পর্তুগালকে হারিয়ে আসা স্পেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ