১১৬ আসনের ব্যালট পৌঁছেছে, গুজব রোধে মেটার সঙ্গে কাজ করছে ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে ১১৬টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোর ব্যালট আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন চিফ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তারা মূলত আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কোনো শঙ্কা আছে কি না, সেটিও তারা জানতে চেয়েছিলেন। ব্যালট পেপার পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সচিব জানান, আদালতের নির্দেশনায় শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে কয়েকটি আসনে ব্যালট পেপার নতুন করে ছাপাতে হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের (৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সব এলাকায় ব্যালট পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নির্বাচনকালীন সময়ে গুজব ও অপপ্রচার রোধকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কমিশন। এ বিষয়ে সচিব বলেন, আমরা মেটার (Meta) সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা চাই না ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হোক। বরং আমরা মেটাকে অনুরোধ করেছি যাতে বিদ্রূপাত্মক, আক্রমণাত্মক বা অপপ্রচারমূলক কনটেন্টগুলো সরিয়ে ফেলা (ডাউন) হয়। কমিশনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেল এ বিষয়ে মেটার সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সচিব জানান, সেনাবাহিনী ৭ দিন মাঠে থাকবে। আনসার ও পুলিশ ৮ দিন নিয়োজিত থাকবে। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকাও দ্রুতই পাওয়া যাবে। সচিব আরও জানান, ডাক বিভাগ ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছেছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮টি।
এছাড়াও, ৬ হাজার ৯১ জন কয়েদি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন, যাদের ভোট গ্রহণ ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে এবং চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
দেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, দেশি পর্যবেক্ষকদের কোনো ক্ষোভের কথা আমার দপ্তরে লিখিতভাবে আসেনি। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতো তারাও যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।
মতামত দিন