মাশহাদে খামেনির দাফন আজ
ইরাকের কারবালায় শোকানুষ্ঠান শেষে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে। সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে নামে লাখো মানুষের ঢল। নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ কারবালায় নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে তাকে চিরশায়িত করা হবে।
বুধবার ভোর থেকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ইরাকের নাজাফে শোকযাত্রা শুরু হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো প্রয়াত নেতার কফিনটি একটি বিশেষ কাচের বাক্সে বহন করা হচ্ছিল। হজরত আলি (রা.)-এর পবিত্র মাজারে তার জানাজা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
নাজাফের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ কারবালার উদ্দেশে নেওয়া হয়। সেখানে ইমাম হুসেন (রা.) ও হজরত আব্বাস (রা.)-এর পবিত্র মাজারে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
গতকাল ইরাকের রাস্তায় সমবেত শোকাহত মানুষের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা দেখা যায়। এ সময় অনেককে বুক চাপড়ে মাতম করতে দেখা যায়। নাজাফ ও কারবালার প্রধান সড়কগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের মাঝে বিনামূল্যে খাবার ও পানীয় বিতরণ করেন।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আয়াতুল্লাহ খামেনির এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই বিশাল জনসমাগম বিশ্বমঞ্চে ইরানের জাতীয় ঐক্য এবং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় প্রতিরোধের বার্তা প্রকাশ করবে।
শিয়া মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ইরাকের নাজাফ নগরী। ঐতিহাসিকভাবেই বহু শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মীয় নেতা এই নগরীতে শিক্ষা গ্রহণ ও প্রচারের কাজ করেছেন, যার মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিও অন্যতম। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ শিয়া পুণ্যার্থী নাজাফ ও কারবালা সফর করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক শোকযাত্রা কেবল ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি ইরান ও ইরাকের মধ্যকার গভীর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেইনের পতনের পর থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, এই শেষকৃত্যের আয়োজন তারই প্রতিফলন।
এদিকে আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তীব্র নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি আপাতত আড়ালে রয়েছেন এবং লিখিত বার্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
মতামত দিন